প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালির তলদেশে অবস্থিত সমুদ্রের নিচের যোগাযোগ ক্যাবলকে নতুন লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করার হুমকি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হুমকি আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। কাতার সতর্ক করে বলেছে যে, যদি এসব ক্যাবলে হামলা হয়, তাহলে ইরানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দোহা একই সঙ্গে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে এবং উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দিয়েছে।
সউদী গেজেটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি সাতটি প্রধান ডেটা যোগাযোগ ক্যাবলের কথা উল্লেখ করেন, যা হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে চলে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স জাদুঘরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
মোহেব্বি বলেন, "আমরা শুধু তাদের জানাতে চাই, নতুন লক্ষ্যবস্তু প্রকাশ করা হবে। নতুন অস্ত্রেরও আত্মপ্রকাশ ঘটবে।" তিনি আরও জানান, ইরান অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট প্রভাব দূর করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ক্যাবলগুলোতে হামলার নির্দিষ্ট সময় বা পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।
গত মার্চের শুরুতে ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং ক্লাউড সেবায় সমস্যা দেখা দেয়। নতুন হুমকির পর গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে গেছে।
টেলিযোগাযোগ খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে ডেটা পরিবহনে লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক ক্যাবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমুদ্রের তলদেশে স্থাপিত এসব ক্যাবলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা পরিচালিত হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে একাধিক দেশের যোগাযোগব্যবস্থা ও অনলাইন সেবা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম আল-হাশমি বলেন, হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা ইন্টারনেট ক্যাবলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ইরানসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, "ইরানের পক্ষের কেউ যদি পরিস্থিতি নিয়ে সৎভাবে চিন্তা করেন, তাহলে তাঁর প্রশ্ন করা উচিত, ‘সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত কে?’" আল-হাশমির মতে, এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপরই বেশি পড়তে পারে।
কাতার আরও সতর্ক করেছে যে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে শুধু যোগাযোগব্যবস্থা নয়, পানির নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ অঞ্চলের দেশগুলো সেচ, লবণ উৎপাদন ও মৎস্য আহরণের মতো কর্মকাণ্ডে প্রণালির পানির ওপর নির্ভরশীল। তাই জলপথটিকে লক্ষ্য করে হামলা ও হুমকি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে দোহা।
এর আগে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এ অঞ্চলের ইন্টারনেট ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এসব অবকাঠামোতে হামলা হলে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। দেশটির মতে, সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে হরমুজ প্রণালির ক্যাবলে হামলা হলে বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট সেবা কতটা ব্যাহত হবে, তা নির্ভর করবে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাবলের সংখ্যা, বিকল্প সংযোগের সক্ষমতা এবং মেরামতের সময়ের ওপর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন