প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর যদি সম্পূর্ণভাবে চালু হয়, তবে দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় 15 শতাংশ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। 2028 সালের মধ্যে কেন্দ্রটির দুটি চুল্লি পুরোপুরি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা কার্যকরভাবে আরও শক্তিশালী হবে, এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
এই তথ্যটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছিল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি, যেখানে দুটি চুল্লির মোট উৎপাদন ক্ষমতা 2400 মেগাওয়াট। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথের দুই দশকেরও বেশি সময় পার হয়েছে। যদিও মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে প্রকল্পের কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রকল্পটি পিছিয়ে পড়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, প্রথম চুল্লি 2027 সালের শুরুর দিকে এবং দ্বিতীয় চুল্লি 2028 সালে পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদনে আসবে।
রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত এই প্রকল্পের মূল ব্যয় প্রায় 1265 কোটি মার্কিন ডলার। তবে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ার কারণে প্রকল্পের ব্যয় প্রায় এক-চতুর্থাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শেষ হলে এই অতিরিক্ত ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব হত এবং জ্বালানি আমদানির খরচও হ্রাস করা যেতে পারতো।
তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উৎপাদন ব্যয়ের দিক থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেশের জন্য লাভজনক হবে।
এদিকে, সরকার ভবিষ্যতের জন্য ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও করছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, 300 থেকে 400 মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার ছোট কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে বিভিন্ন দেশের নির্মাতাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। এসব কেন্দ্র নদীর তীরে দ্রুত নির্মাণ করা সম্ভব হবে। বড় আকারের নতুন কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত নেই বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে আগামী পাঁচ থেকে সাত বছর দেশে নতুন ভিত্তিভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজন হবে না। এর ফলে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা আধুনিক করার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি সফলভাবে পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল, শক্তিশালী ও স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা, জনসমর্থন ও ব্যবহৃত জ্বালানির নিরাপদ উপায়ে ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী নির্মাণাধীন অধিকাংশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাশিয়া ও চীনের প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। একই সময়ে ভারত বড় পরিসরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানও চীনের সহায়তায় একাধিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর প্রকল্প শুধুমাত্র দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন