প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২০ জুলাই, ২০২৬ : দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধানের জন্য মিয়ানমারের ওপর আরো আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের জন্য বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘থ্রি ডিকেডস অব বিমসটেক: অ্যাডভান্সিং রিজিওনাল কো-অপারেশন ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতার সময় এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।’
শামা আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ব্যাপকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বাংলাদেশ এবং এর অংশীদাররাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বিমসটেকের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আঞ্চলিক প্রতিশ্রুতিকে অধিক বাস্তবায়ন, কার্যকর সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
বর্তমান বিমসটেক চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংহতি, আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ব্লু ইকোনমি এবং জনগণকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি জানান, সংস্থার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে সকল সদস্য রাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হবে।
শামা আশা প্রকাশ করেন, সেমিনার থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্বকে আরও কার্যকর করবে এবং সংস্থার ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সহায়ক হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বিমসটেকের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্রমণি পাণ্ডে নারীর উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের শিক্ষা, বিদ্যুৎ গ্রিড আন্তঃসংযোগ ও জ্বালানি খাতে কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন চলমান প্রকল্প ও উদ্যোগ তুলে ধরেন।
তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাইবার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক ও মানব নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, পর্যটন, ভিসা সহজীকরণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিমসটেকের সহযোগিতা নিয়ে আলোকপাত করেন।
বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন, এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদুজ্জামান এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম সেমিনারে প্যানেল উপস্থাপনা করেন।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)-এর সভাপতি মেজর জেনারেল এ এন এম মুনীরুজ্জামান (অব.) অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
মূল প্রবন্ধ ও প্যানেল আলোচনায় গত তিন দশক ধরে বিমসটেকের অগ্রযাত্রা পর্যালোচনা করা হয় এবং আঞ্চলিক জোটটির সামনে থাকা সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ মূল্যায়ন করা হয়।
আলোচনায় বিমসটেকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা আঞ্চলিক সংহতি জোরদার এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা, সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে বাস্তবমুখী ও কর্মভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
আলোচনার মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা, সংযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। একসাথে, বিমসটেককে আরও কার্যকর করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব এবং তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণী সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সেমিনারে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারণী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন