প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রকৃতির সবচেয়ে শক্তিশালী জলবায়ুগত ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে সুপার এল নিনো। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, আবারও তৈরি হচ্ছে এমন এক সুপার এল নিনো, যা কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। আর সেই হুমকি মোকাবিলায় এবার সূর্যের আলো সাময়িকভাবে কমিয়ে দেয়ার মতো বিতর্কিত এক ধারণা নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা。
কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে এবারের সুপার এল নিনো। বিজ্ঞানীরা এমন আশঙ্কাই করছেন। আর সেই শঙ্কার মধ্যে উঠে এসেছে বিতর্কিত এক ধারণা। সূর্যের কিছু আলো সাময়িকভাবে পৃথিবীতে পৌছাতে না দিয়ে এল নিনোর তীব্রতা কমানো যায় কি না, তা নিয়ে চলছে গবেষণা।
সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা থেকেই এল নিনো তৈরি হয়। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বাড়ে তাপমাত্রা, খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি ও বন্যার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেই প্রভাব আরও তীব্র হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করেছেন ‘মেরিন ক্লাউড ব্রাইটেনিং’ নামে পরিচিত একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে সমুদ্রের ওপরের মেঘে সূক্ষ্ম কণা ছড়িয়ে মেঘকে আরও বেশি সূর্যালোক প্রতিফলিত করতে সহায়তা করা হয়, যাতে পৃথিবীতে কম তাপ পৌঁছায়।
বাস্তবে এমন পরীক্ষা না চালিয়ে, ২০১৯-২০ সালে অস্ট্রালিয়ার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া থেকে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক পরিস্থিতির তথ্য ব্যবহার করেছেন গবেষকরা। তাদের জলবায়ু মডেল বলছে, সঠিক সময়ে এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা গেলে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হতে পারে।
তবে গবেষকরাই বলছেন, এটি কোনো সমাধান নয়, বরং সম্ভাবনা যাচাইয়ের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। কারণ, এল নিনো দুর্বল করতে গিয়ে বিপরীতভাবে লা নিনার প্রভাব অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় অতিবৃষ্টি এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে নতুন আবহাওয়া সংকট দেখা দিতে পারে।
এছাড়াও, এই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করার মতো সক্ষম যন্ত্রপাতিও এখনও তৈরি হয়নি। এর সঙ্গে রয়েছে পরিবেশগত, রাজনৈতিক ও নৈতিক নানা প্রশ্ন। তাই বিজ্ঞানীদের মতে, সুপার এল নিনোর ক্ষতি কমানোর উপায় হিসেবে বিষয়টি আরও গভীর গবেষণার দাবি রাখে, কিন্তু এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর বিকল্প নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন