প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
অভিনয়, গান এবং ক্রীড়াজগতের পাশাপাশি নেটদুনিয়ার পরিচিত মুখেরা স্থান পেয়েছেন ‘বিগ বস্ বাংলা’য়। বিতর্ক এবং সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয়তা— এই দুই বিষয় এ বারের প্রতিযোগী তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেই প্রতিযোগীরা কারা?
‘বিগ বস্ বাংলা’ শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন জল্পনার পর প্রকাশিত হয়েছে, কারা এই রিয়্যালিটি শো-তে অংশগ্রহণ করেছেন। বাংলায় শেষবার ‘বিগ বস্’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালে। তাই দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। অভিনয়, গান এবং ক্রীড়াজগতের পাশাপাশি নেটদুনিয়ার পরিচিত মুখেরা জায়গা করে নিয়েছেন। বিতর্ক ও সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয়তা— এই দুই বিষয় এ বারের প্রতিযোগী তালিকায় বড় ভূমিকা রেখেছে। কারা এলেন? কেন তাঁরা ‘বিগ বস্’-এ স্থান পাওয়ার জন্য বিশেষ হয়ে উঠলেন?
মনামী ঘোষ: টলিপাড়ায় দুই দশক ধরে কাজ করছেন মনামী। ছোটপর্দা এবং বড়পর্দা মিলিয়ে তাঁর অনেক কাজ রয়েছে। অভিনেত্রীর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘পদাতিক’ ২০২৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল। এরপর বেশ কিছু মিউজ়িক ভিডিয়োয় দেখা গেছে মনামীকে। নাচের রিয়্যালিটি শো-তে বিচারকের আসনেও তাঁকে দেখা গেছে। মনামীর জনপ্রিয় ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বিন্নিধানের খই’, ‘ইরাবতীর চুপকথা’, ‘পুণ্যিপুকুর’। ইনস্টাগ্রামে মনামীর ফলোয়ার সংখ্যা ২৩ লক্ষ।
ভরত কল: জন্মসূত্রে কাশ্মীরি হলেও তিনি নিজেকে বাঙালি হিসেবে পরিচয় দেন। বাংলা ইন্ডাস্ট্রির একজন জনপ্রিয় অভিনেতা। তিন দশক ধরে ছোটপর্দা এবং বড়পর্দায় অভিনয় করছেন। ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’, ‘যুদ্ধ’, ‘জোশ’, ‘চ্যালেঞ্জ ২’, ‘খাদ’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং ‘গীতা এলএলবি’, ‘রোশনাই’, ‘লক্ষ্মী কাকিমা সুপারস্টার’-সহ অসংখ্য জনপ্রিয় ধারাবাহিক রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
দুর্নিবার সাহা: ‘বিগ বস্ বাংলা’য় একমাত্র সঙ্গীতশিল্পী তিনি। রিয়্যালিটি শো থেকে তাঁর উত্থান হয়েছে। বেশ কিছু ছবিতে প্লেব্যাক গেয়েছেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বামশিবিরের মিছিলে গান গাওয়ার জন্যও দুর্নিবারকে দেখা গিয়েছিল। ‘কিলবিল সোসাইটি’, ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’, ‘নারীচরিত্র বেজায় জটিল’ ছবিতে গান গেয়েছেন দুর্নিবার।
সোহিনী পাল: পেশায় তিনি অভিনেত্রী। প্রয়াত অভিনেতা তাপস পালের কন্যা। ‘বো ব্যারাক্স ফরএভার’, ‘জ্যাকপট’, ‘অটোগ্রাফ’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। সেই সঙ্গে হিন্দি ধারাবাহিক ‘চিড়িয়া ঘর’, ‘আপ কে আ জানে সে’ ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছেন সোহিনী।
অনিন্দ্য সেনগুপ্ত: এক সময়ে ছোটপর্দার গানের অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করতেন। সেখান থেকেই অভিনয়ে আসেন। ‘এক্স=প্রেম’, ‘অতি উত্তম’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। আবার ‘খোলাম কুচি’, ‘খুঁজেছি তোকে রাত বেরাতে’, ‘প্রেমে পড়া বারণ’-এর মতো ওয়েব সিরিজ়েও দেখা গেছে অনিন্দ্যকে। হিন্দিতে ‘কড়ক সিংহ’ ও ‘হোস্টেল ডেজ়’-এর মতো ছবিতেও কাজ করেছেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ২৩ হাজারের কিছু বেশি।
নিরঞ্জন মণ্ডল (লাফটার সেন): নানা ধরনের চরিত্রে মজার মজার ভিডিয়ো তৈরি করেন নিরঞ্জন। কখনও তিনি মা, কখনও তিনি ছেলে, কখনও আবার পেয়াঁজ-রসুন হয়ে ওঠেন। তবে হাসির পাশাপাশি সামাজিক বার্তাও দেন তিনি বেশ কিছু কনটেন্ট-এর মাধ্যমে। জাতীয় স্তরেও পরিচিতি অর্জন করেছেন তিনি। ‘মেছো’ ও ‘বীরাঙ্গনা’ নামে দুটি ওয়েব সিরিজ়েও তাঁকে দেখা গেছে। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ১২ লক্ষ।
নন্দিনী দত্ত: ছোটপর্দা ও ওটিটি-তে পরিচিত মুখ নন্দিনী। ২০১৯ সাল থেকে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেছেন। ‘দুই শালিখ’, ‘কনে দেখা আলো’, ‘বসন্ত বিলাস মেসবাড়ি’র মতো ধারাবাহিকে তাঁকে দেখা গেছে। ‘বিগ বস্ বাংলা’য় দেখা যাচ্ছে তাঁকে। ইনস্টাগ্রামে ৩ লক্ষ ২৪ হাজার ফলোয়ার সংখ্যা তাঁর।
সৃজলা গুহ: ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী। ‘মন ফাগুন’ ধারাবাহিক থেকে অনুরাগীদের মুগ্ধ করেছেন। ‘দাদুর কীর্তি’, ‘বাতাসে গুনগুন’ ওয়েব সিরিজ়েও অভিনয় করে নজর কাড়েন তিনি। সম্প্রতি জিতের ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবিতেও অভিনয় করেছেন সৃজলা। ইনস্টাগ্রামে সৃজলার ফলোয়ার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৭৭ হাজার।
সায়ক চক্রবর্তী: বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়ে না। পেশায় তিনি অভিনেতা ও বিষয়স্রষ্টা। তবে চলতি বছরে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। এক রেস্তরাঁয় গিয়ে অভিযোগ করেছিলেন, তিনি একরকম মাংস চাওয়ার পরেও তাঁকে অন্য মাংস দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। তা ছাড়া বন্ধু দেবলীনা নন্দীর হাসপাতাল থেকে ভিডিয়ো করা নিয়েও বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন।
সোনামণি সাহা: ‘দেবী চৌধুরানী’, ‘মোহর’, ‘শুভ বিবাহ’র মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করে জনপ্রিয় মুখ তিনি। ‘মোহর’ ধারাবাহিকে সহ-অভিনেতা প্রতীক সেনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের গুঞ্জন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ বার সেই সোনামণিও ‘বিগ বস্ বাংলা’র অন্দরে। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যা ১ লক্ষ ৬২ হাজার।
দীপেন্দু বিশ্বাস: ‘বিগ বস্ বাংলা’য় একমাত্র ক্রীড়াজগতের মানুষ তিনিই। অবসরপ্রাপ্ত ফুটবলার বসিরহাটের ছেলে। বর্তমানে তিনি মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের টিম ম্যানেজার। ফুটবলারের বাবা বাঙালি এবং মা মলয়ালি। একসময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ভোটে লড়েছিলেন। ২০২১ সালে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
ঝিলম গুপ্ত: সমাজমাধ্যমের অতিপরিচিত মুখ ঝিলম। বিভিন্ন সামাজিক বিষয়কে রসবোধের মাধ্যমে তুলে ধরেন। কোনও বিষয় বা ছবিতে নিয়ে চাঁচাছোলা সমালোচনা করেন। এর জন্য ঝিলম একাধিক বার রোষানলে পড়েছেন। তবে তিনি বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব দেননি। কথাবার্তা ছাড়াও গানও করেন ঝিলম। ইউটিউবে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ৯৪,৫০০ এবং ইনস্টাগ্রামে ৫৪,৭০০।
জয়িতা চট্টোপাধ্যায়: মুম্বইবাসী বাঙালি তিনি। পেশায় অভিনেত্রী এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি নেটপ্রভাবীও। পাশাপাশি পডকাস্টও করেন জয়িতা। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ২০ লক্ষ ফলোয়ার সংখ্যা।
আলেকজ়ান্দ্রা টেলর: আয়ারল্যান্ডের মেয়ে তিনি। ব্রিটিশ-আইরিশ মডেল বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলা বিনোদনজগতের অংশ। ২০২২ সালে ‘ওগো বিদেশিনী’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তা ছাড়া, ‘বাঘাযতীন’ ছবিতে ও ‘আবার প্রলয়’ ওয়েব সিরিজ়েও কাজ করেছেন অভিনেত্রী। ১ লক্ষ ২৯ হাজার ফলোয়ার সংখ্যা তাঁর ইনস্টাগ্রামে।
তনুশ্রী রায় দাস: তিনি উদ্যোক্তা। শাড়ির ব্যবসা রয়েছে। সমাজমাধ্যমে শাড়িবিক্রেতা হিসেবে সফর শুরু করে তিনি এখন ‘বিগ বস্ বাংলা’র ঘরে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন