প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম মন্তব্য করেছেন যে, এআই সত্যকে গুজব এবং গুজবকে সত্যে পরিণত করছে। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরিতে এআই এর প্রভাব নিয়ে চিন্তা করা উচিত।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র ছায়া সংসদের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। এই প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে আজ আমাদের রাষ্ট্রের সিকিউরিটি, অর্থনৈতিক সিকিউরিটি এমনকি ব্যক্তিগত সিকিউরিটিও হুমকির সম্মুখীন। সাইবার সিকিউরিটি পরিস্থিতিও নাজুক। পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে অর্থ চুরি হয়েছে, তাতে এআই এর প্রভাব ছিলো কিনা তা নিয়ে ভাবতে হবে। ফেইক নিউজের মাধ্যমে আজ ব্যক্তিত্বকে বদলে ফেলা হচ্ছে। সত্যকে গুজব এবং গুজবকে সত্যে পরিণত করা হচ্ছে। এআই এর অপব্যবহারে বিশ্ব অচেনা হয়ে যাচ্ছে। এটি যেন একটি যুদ্ধের মতো। তবে এআই এর উপর জ্ঞানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা হলো ‘কমনসেন্স’।
তিনি আরো বলেন, এআই এর অনেক সেন্স আছে, কিন্তু মানুষের মত কমনসেন্স নেই। সুপার এআই আসার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিশ্বসংস্থার মাধ্যমে বিশ্ব সমঝোতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। বৈশ্বিক আইনি বিধানও প্রয়োজন। এআই আজ সব ক্ষেত্রে নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করছে। এমনকি যারা এটি তৈরি করেছে, তারাও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমান অর্থনীতি এআই এর নয়, বরং এর মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সৃষ্টি হবে। বিশ্বের অনেক মানুষের কাজ চলে যাবে। এআই বিকল্প কাজ সৃষ্টি করতে আসেনি। তবে এআই নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, প্রযুক্তি মানুষের জন্য আশির্বাদ হলেও এর অপব্যবহার সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিকিৎসা বিজ্ঞান, রোগ নির্ণয়, নতুন ওষুধ উদ্ভাবন, কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, দুর্যোগের পূর্বাভাস, মানব শ্রমের অপচয় কমানো, ব্যবসা-বাণিজ্য, গ্রাহক সেবা সহ জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই নানাভাবে সহযোগিতা করছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের কারণে ভূয়া ছবি, ভূয়া ভিডিও, অডিও ক্লোনিং এর মাধ্যমে সমাজে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। কন্ঠ ও চেহারা নকল করে ভূয়া কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে প্রতারণা করা হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে যেভাবে অপসাংবাদিকতা শুরু হয়েছে, তা প্রতিরোধ করা না গেলে মূলধারার গণমাধ্যম হুমকির মুখে পড়বে। মানুষের সংবাদে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে। অপসাংবাদিকতা গণমাধ্যমকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাবে।
চৌধুরী কিরণ আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো মারাত্মক সাইবার নিরাপত্তা হুমকিতে রয়েছে। অথচ আমাদের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা অনেকাংশেই পার্শ্ববর্তী দেশের হাতে। আমাদের ব্যান্ডউইথ চাহিদার সিংহভাগই আসে ভারত থেকে। সেই দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থা আমাদের ডিজিটাল ডেটা ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নজরদারি করতে পারে। এতে আমাদের যোগাযোগবার্তা ও তথ্যাদি অন্যের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য আশির্বাদ নয়, অস্তিত্বের সংকট’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে সরকারি তিতুমীর কলেজ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, ড. শাকিলা জেসমিন, মাইদুর রহমান রুবেল ও আনোয়ার হোসেন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন