প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আইসিটি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পাওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের মেধাবী উদ্যোক্তাদের সহযোগীতা করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি এ সময় আরও বলেন, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য ৫০০ কোটি টাকার বাজেট রাখা হয়েছে। প্রত্যেক স্টার্টআপ উদ্যোক্তাকে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা সহায়তা করার চেষ্টা করা হবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব হাসান আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত 'তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ' শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী পর্বের পর বেলা ১টা থেকে অনুষ্ঠানটি সাধারন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ হিসেবে জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, আমরা চিন্তা করছি যে এমন উদ্যোক্তা আছেন যারা ব্যাংকের বিভিন্ন হ্যাচেল ফেস করেছেন, যারা সিকিউরিটি বা কাগজ দিতে বাধ্য হন। এই সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের রাখা হয়নি। একটি নিরপেক্ষ কমিটি তৈরি হয়েছে যা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান প্রধানমন্ত্রীকে একটি প্রশ্ন করে জানান, বাবা-মায়ের জমি বা সম্পত্তি দেখে ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, বিভিন্ন উপায় আছে, কিন্তু সেগুলো যথার্থ নয়। যাদের ভালো স্টার্টআপ ধারণা রয়েছে, কিন্তু জামানত নেই, তাদের ঋণ পাওয়ার জন্য সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ক নিরপেক্ষ কমিটি সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার প্রজেক্ট বিশ্লেষণ করে তাদের ফান্ড করবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর একটি আরেকটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে সাহায্য প্রদান করা হবে, সেটি পাবলিক মানি। যদি উদ্যোক্তার মধ্যে পটেনসিয়াল থাকে, তাহলে আবার ফান্ডের বিষয়টি ভাবা হবে। কারণ অনেকের ব্যবসা শুরুতেই সফল হয় না, কিন্তু সম্ভাবনা থাকলে দ্বিতীয়বার তারা সুযোগ পাবেন।
এটি উল্লেখযোগ্য যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি উদ্যোক্তাদের জন্য জাতীয় পর্যায়ের একটি লঞ্চপ্যাড হিসেবেও কাজ করবে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা সরকারি সহায়তা কর্মসূচি, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বিনিয়োগের সুযোগ, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা এক জায়গা থেকে জানতে পারবেন এবং গ্রহণ করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন যে, এর ফলে উদ্যোক্তা উন্নয়নের কার্যক্রমে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে এবং দেশে আরও কার্যকর স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জানিয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গবেষণা এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী গঠিত ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে সহায়ক হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন