প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিয়ের আগে বর-কনের জন্য বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। সাজসজ্জা এবং পোশাকের জন্য খরচ করা হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ। যদিও এসব বিষয়ে অধিক মনোযোগ দেওয়া হয়, তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে অনেকেই উদাসীন থাকেন। সেটি হলো বিয়ের পূর্বে বর-কনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
চিকিৎসকরা উল্লেখ করেছেন, থ্যালাসেমিয়া, বর্ণান্ধতা, সিক্ল সেল অ্যানিমিয়া, এবং এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফেটালিসের মতো রোগগুলি এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সঞ্চারিত হতে পারে। এই রোগগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিয়ের আগে বর-কনের রক্তপরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।
১. হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস
রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় বর বা কনে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত কি না, অথবা তারা এই রোগের বাহক কি না। যদি বর ও কনে উভয়েই এই রোগের বাহক হন, তবে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়ার মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই অনাগত সন্তানের স্বার্থে থ্যালাসেমিয়া বাহকের মধ্যে বিয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়।
২. ব্লাড গ্রুপিং এবং আরএইচ টাইপিং
হবু বর-কনের রক্তের গ্রুপ যদি একই হয়, তবে সন্তান ধারণে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু রক্তের গ্রুপের রেসাস বা আরএইচ ফ্যাক্টর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অর্থাৎ, রক্তের গ্রুপ পজিটিভ নাকি নেগেটিভ তা জানা প্রয়োজন। কারণ, যদি মা আরএইচ নেগেটিভ হন এবং বাবা আরএইচ পজিটিভ হন, তবে অনাগত সন্তান গর্ভাবস্থায় ইরাইথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস নামে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে, যদি মা আরএইচ নেগেটিভ এবং বাবা আরএইচ পজিটিভ হন, তাহলে প্রথমবার গর্ভধারণের সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করলে সুস্থ সন্তানের জন্ম দেওয়া সম্ভব।
৩. যৌনবাহিত রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা
এইডস, সিফিলিস, গনোরিয়া, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি ইত্যাদি মারাত্মক রোগগুলো স্বামী-স্ত্রীর যৌন মিলনের মাধ্যমে একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিয়ের আগে এসব রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসা হবু বর-কনেকে নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসী রাখতে সাহায্য করে এবং পরবর্তীতে সন্তানের মধ্যে এসব রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
৪. প্রজনন ক্ষমতা সংক্রান্ত পরীক্ষা
এই পরীক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে স্ট্রেস এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে ইনফার্টিলিটির সমস্যা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এই শারীরিক সমস্যা বিবাহিত জীবনে মানসিক ও সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করে। শূন্যতা অনুভূত হয়। তাই আগে থেকেই দুজনের ফার্টিলিটি পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত।
৫. হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা
বিয়ের পূর্বে রক্তে ভিটামিন ডি-এর মান এবং হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। যদি কারও রিকেট, হাড়ের গঠনগত সমস্যা বা অস্টিওপোরোসিস থাকে, তাহলে তা অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
৬. মানসিক রোগ
অনেকে মনে করেন, বিয়ে করলেই মানসিক রোগ সেরে যাবে, যা একেবারেই সঠিক নয়। সিজোফ্রেনিয়া, ডিপ্রেশন, বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডার ইত্যাদি মানসিক রোগ বিয়ের আগেই শনাক্ত করে চিকিৎসা করানো উচিত এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক সময়ে তাঁদের বিয়ে দেওয়া উচিত।
৭. ক্রনিক রোগ স্ক্রিনিং
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যা ইত্যাদি রোগের পরীক্ষা করানোর মাধ্যমে পাত্র-পাত্রী দুজনেরই জানা উচিত, কেউ এসব রোগে ভুগছেন কি না এবং অপরকে জানানো উচিত।
৮. ক্রনিক রোগ স্ক্রিনিং
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যা ইত্যাদি রোগের পরীক্ষা করানোর মাধ্যমে পাত্র-পাত্রী দুজনেরই জানা উচিত, কেউ এসব রোগে ভুগছেন কি না এবং অপরকে জানানো উচিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন