প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান। যাত্রীদের হয়রানি, লাগেজ চুরি এবং বিমানবন্দরের অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে তার অবস্থানের কারণে তিনি দ্রুত যাত্রীদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রশংসা ও ‘ফাটাকেষ্ট’ নামেও পরিচিতি লাভ করেন তিনি।
তবে কিছুদিন ধরে নওশাদ খানকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা না যাওয়ার কারণে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক এবং ইউটিউবে তার বদলির খবরও ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ এখন কোথায় অবস্থান করছেন?
এ সকল গুঞ্জনকে অস্বীকার করে নওশাদ খান জানিয়েছেন, তিনি এখনও শাহজালাল বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনার কাজ করছিলেন।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন নওশাদ খান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
লাগেজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও যাত্রী হয়রানি কমানোর জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। লাগেজ হ্যান্ডলিং ও রিলিজের সাথে যুক্ত কর্মীদের জন্য বডি-ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ কন্টাক্ট জোনে সিসিটিভি স্থাপন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ফুটেজ সংরক্ষণের মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
এই কারণে বিমানবন্দরে কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে নওশাদ খানের নাম আলোচনায় আসত। তার কার্যক্রমের ফলে অনেক যাত্রী ও প্রবাসীর মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছিল।
তবে সম্প্রতি বিমানবন্দরের যাত্রীসেবার বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে। দীর্ঘ অপেক্ষা, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং ট্রলির সংকটসহ নানা বিষয়ে যাত্রীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
সম্প্রতি মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি সরবরাহ নিয়ে উত্তেজনার ঘটনা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত মেজর ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি ও নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও নওশাদ খানের পুরোনো অভিযানগুলোর ভিডিও ও খবর ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, যাত্রীদের অভিযোগে দ্রুত ছুটে যাওয়া সেই কর্মকর্তা এখন কোথায়? কিছু মানুষ আবারও তাকে বিমানবন্দরের অনিয়ম তদারকিতে সক্রিয়ভাবে দেখতে চেয়ে পোস্ট ও মন্তব্য করেন।
তবে নওশাদ খান জানিয়েছেন, তিনি বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখনও বিমানবন্দরেই আছি। একটু আগে লাগেজের কাজ করলাম। এসব খবর আমি অনলাইনে দেখছি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে আগের মতো দেখা না যাওয়ার কারণও তিনি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি তেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় আসি না। এড়িয়ে চলি।
বিমানবন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কিছু আসলে শোনা যায়। কিন্তু আমাদের কাছে নির্দিষ্ট করে কেউ কোনো অভিযোগ জানালে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিই। সাধারণ মানুষকে বলব, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে। তাহলে প্রতিকার পাবেনই।
অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়ালেও ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ এখনও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন