প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা কম। অভিযোগ উঠেছে যে কাস্টমস-বন্দর দুর্নীতি, ডিজিটাল ওজনস্কেলে কারসাজি, উচ্চ শুল্কের পণ্য কম শুল্কে খালাস এবং সংঘবদ্ধ চক্রের পণ্য পাচারের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রাজস্ব আদায়ে এই বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ার সময়ে, বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ২ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন পণ্য। বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ হলো মিথ্যা পণ্য ঘোষণা, ডিজিটাল ওজনস্কেলে কারসাজি, উচ্চ শুল্কের পণ্য কম শুল্কে খালাস এবং সংঘবদ্ধভাবে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে যে তারা নিরাপদ ও স্বচ্ছ বাণিজ্য নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমসে ৬৭০৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছিল ৭ হাজার ২১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আর এর আগের অর্থবছর, ২০২৪-২৫ সালে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৭ হাজার ২৯ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা এবং আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০৯ মেট্রিক টন। তুলনামূলকভাবে দেখা যাচ্ছে যে এক বছরে আমদানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন এবং রাজস্ব আদায় কমেছে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউস রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। পরে আবার সংশোধিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয় ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছর শেষে আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। ফলে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪২ শতাংশ। একই সময়ে বন্দর দিয়ে ১৪ লাখ ২ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা কম এবং আমদানির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন কমেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায় যে, বৈশ্বিক মন্দা অনেকটা কাটিয়ে উঠলেও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতি বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে সচেতন ব্যবসায়ী মহলে।
দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ডিজিটাল ওজনযন্ত্রে কারসাজি, পণ্যের ভুল শ্রেণিবিন্যাস এবং মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসছে। এই কারণে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি অসাধু চক্র অবৈধভাবে বিপুল অর্থের মালিক হচ্ছে। গত এক মাসে বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা প্রায় ১৫ কোটি টাকার পণ্য চালান আটক হয়েছে। এ ঘটনায় শুল্ক ফাঁকি, পণ্য পাচার এবং সরকারি মালামাল আত্মসাতের অভিযোগে সম্প্রতি কাস্টমস, বন্দর এবং বিজিবির কর্তৃপক্ষ পৃথক চারটি মামলা করেছে। এসব মামলায় কাস্টমস কর্মকর্তা, আনসার সদস্য, নিরাপত্তাকর্মী, ট্রাকচালকসহ মোট ৫৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিজিবির এক অভিযানে সরকারি নিলাম পণ্য কাস্টমসের নিজস্ব গোডাউন থেকে পাচারের সময় কাস্টমসের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজন গ্রেফতার হয়েছে। তবে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকায় এসব আসামিরা কেউ গ্রেফতার হয়নি।
সম্প্রতি কাস্টমসের একটি দাফতরিক চিঠিতে বন্দরের একটি ডিজিটাল ওজনযন্ত্রে একই ভারতীয় খালি ট্রাকের জন্য একই সময়ে দুই ধরনের ওজন দেখানোর তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট চালানটি আটক করে তদন্ত শুরু হয়েছে কাস্টমসের পক্ষ থেকে।
বেনাপোল ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে ব্যবসায়ীদের আস্থা আরও বাড়বে এবং স্বচ্ছ বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানিয়েছেন, কাস্টমসের অভিযোগ পাওয়ার পর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওজনযন্ত্রের তথ্য, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সে বন্দর, কাস্টমস বা ব্যবসায়ীমহল যেই হোক না কেন, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো. ফাইজুর রহমান বলেছেন, রাজস্ব ফাঁকি রোধে কাস্টমস সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। ওজনস্কেলে কারসাজি, মিথ্যা ঘোষণা কিংবা শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে যারা জড়িত থাকুক, তদন্তে প্রমাণ মিললে কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন