প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। সম্প্রতি কোম্পানিটি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) এই তথ্য জানায়। নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে সালমান এফ রহমানকে বাদ দেওয়া হবে।
বেক্সিমকো ফার্মার পক্ষ থেকে বিএসইসিকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সালমান এফ রহমান পর্ষদ থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। তার পদত্যাগের কারণে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন পর্ষদ গঠনের জন্য বেক্সিমকো ফার্মার উদ্যোক্তাদের মধ্যে তিনজন, চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক, আইএফআইসি ব্যাংকের প্রতিনিধিরা এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিএসইসির পক্ষ থেকে কোম্পানিটিকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বেক্সিমকো যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে সালমান এফ রহমান পর্ষদ থেকে পদত্যাগে সম্মত হয়েছেন। তিনি চান যাতে তার পদত্যাগের ফলে কোম্পানির ব্যবসা ও শেয়ারধারীদের কোনো ক্ষতি না হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সালমান এফ রহমান গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
বেক্সিমকো ফার্মা দেশের শেয়ারবাজারের পাশাপাশি লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটেও (এআইএম) তালিকাভুক্ত রয়েছে। জানা গেছে, কোম্পানির বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সালমান এফ রহমানকে পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে একমত হয়েছেন। বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিদেশি শেয়ারধারীদের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল বিএসইসি, কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তা সমর্থন করেননি। ফলে এখন স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা বাড়িয়ে কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেক্সিমকো ফার্মা দেশের ওষুধ খাতের একটি শক্তিশালী কোম্পানি। তবে সালমান এফ রহমানের মালিকানা ও প্রভাবের কারণে কোম্পানির সুনাম ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদি তিনি পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়ান, তাহলে এটি কোম্পানির সুনাম ও ব্যবসার জন্য একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হবে, যা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে।
বিএসইসিকে দেওয়া বেক্সিমকোর চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির কারণে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হবে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আগে তার সম্পর্কে যথাযথ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
উল্লেখ্য, বেক্সিমকো ফার্মার সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটি ২২২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। গত বছরের জুনে সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানির মুনাফা ছিল ৬৯৪ কোটি টাকা। ১৯৮৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির ৩০ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তাদের হাতে রয়েছে, যার মধ্যে সালমান এফ রহমান একজন। কোম্পানির বাকি ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক, বিদেশি ও ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন