প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এর প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে বিশ্বের অনেক দেশে চরম আবহাওয়া দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে তীব্র গরম, খরা, অতিবৃষ্টি ও বন্যা।
গত শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত ডব্লিউএমওর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এল নিনোর প্রভাব দ্রুত বাড়তে পারে। এই সময়ের মধ্যে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও অধিক বাড়তে পারে।
ডব্লিউএমওর মুখপাত্র ক্লেয়ার নালিস জানিয়েছেন, বছরের সবচেয়ে গরম সময়ের শুরুতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত সপ্তাহে জার্মানির তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে, পূর্বাভাসে যোগ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন টিকিয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু স্থানগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টির পরিমাণ কম হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অধিক বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। এই প্রভাবের মধ্যে ভারত মহাসাগরের আরেকটি জলবায়ুগত ঘটনা ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ও বিষয়টিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ডব্লিউএমও জানাচ্ছে, আগাম সতর্কতার ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে সরকারগুলো এখন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবে। এর ফলে মানুষের এবং জীবিকার ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। সংস্থার কর্মকর্তা উইলফ্রান মুফুম্বা সিলভা বলেছেন, যেসব অঞ্চলে খরার ঝুঁকি রয়েছে, সেখানকার জন্য কৃষিকাজ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পানির ব্যবস্থা এখন থেকেই নিশ্চিত করা উচিত।
এল নিনো সম্পর্কে বলা যায়, এটি একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। সাধারণত, প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এটি ঘটে এবং প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। এটি সাধারণত বছরে মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয় এবং বছরের শেষ দিকে সবথেকে বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তবে ডব্লিউএমও জানাচ্ছে, এল নিনোর প্রভাব সব দেশের উপর একইভাবে পড়ে না। আবার এল নিনো বা লা নিনা না থাকলেও চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন