প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ গতকালের তুলনায় আরও তীব্র হয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে। এর মধ্যে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে যে, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে কেএন-৩০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পেয়েছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা অধিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এই তথ্য জানিয়েছে বলে ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম ইউক্রেনস্কা প্রাভদার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাস পর্যন্ত রাশিয়ার কাছে প্রায় ৫০টি কিনঝাল অ্যারোব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিঃশেষিত হয়ে গেছে। একই সময় উত্তর কোরিয়ার কেএন-৩০, কেএন-২৪ ও কেএন-২৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল প্রায় ৫০টি।
রাশিয়ার কেএন-৩০ ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার খবর এবারই প্রথম প্রকাশ্যে এসেছে। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দারা জানিয়েছে, রাশিয়া ইতোমধ্যেই ইউক্রেনে হামলায় উত্তর কোরিয়ার কেএন-২৩ ও কেএন-২৪ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
একাধিক গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে ইউক্রেনস্কা প্রাভদা আরও বলেছে, রাশিয়ার মজুত অস্ত্রের মধ্যে ৬০০টির বেশি অনিক্স ক্ষেপণাস্ত্র, ৪৫০টির বেশি কালিব্র, ১২০টির বেশি জিরকন এবং প্রায় ১৩০টি ইস্কান্দার-এম ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের আরও শত শত ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার হাতে আছে।
একই সময়ে রাশিয়ার সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স প্রতি মাসে ২০০টির বেশি ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে সক্ষম বলেও ইউক্রেনীয় গোয়েন্দারা জানিয়েছেন।
কেএন-৩০ হলো উত্তর কোরিয়ার হোয়াসং-১১সি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পশ্চিমা নাম। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি হোয়াসং-১১ডিএ নামেও পরিচিত। এটি হোয়াসং-১১ পরিবারের বড় আকারের একটি সংস্করণ এবং স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (এসআরবিএম) শ্রেণিভুক্ত।
ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি সলিড-ফুয়েল ইঞ্জিনে চলে এবং মোবাইল স্থলভিত্তিক লঞ্চার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। হোয়াসং-১১সি-এর প্রথম পরিচিত পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ হয় ২০২১ সালের ২৫ মার্চ। ওই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি অন্তত ৬০০ কিলোমিটার পাল্লা প্রদর্শন করেছিল।
এর আগে উত্তর কোরিয়া দাবি করেছিল, এই ক্ষেপণাস্ত্র ২.৫ টন ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। কেএন-৩০ প্রথমবার প্রকাশ্যে প্রদর্শিত হয় ২০২১ সালের ১৪ জানুয়ারি পিয়ংইয়ংয়ে আয়োজিত একটি সামরিক কুচকাওয়াজে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা রাশিয়ার মজুত থাকা অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে। তাদের হিসাবে, ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর জন্য বরাদ্দ ইস্কান্দার-এম অপারেশনাল-ট্যাকটিক্যাল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ৯এম৭২৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ছিল প্রায় ১৩০টি।
অগাস্টের শুরুতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি আন্দ্রি চেরনিয়াক জানান, উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার ভোরোনেঝ অঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন শুরু করেছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে এই ইউনিট মোতায়েন করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোরোনেঝ অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার জন্য ছয়টি লঞ্চার মোতায়েন করা হয়েছে।
এগুলো দিয়ে ইউক্রেনের সাতটি অঞ্চলে হামলা চালানোর সম্ভবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ)। আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) কিয়েভ পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এইচইউআর-এর বরাত দিয়ে আইএসডব্লিউ জানায়, গত জুলাই পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে প্রায় ৫০টি কেএন-২৩, কেএন-২৪ ও কেএন-৩০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে।
আইএসডব্লিউ-এর তথ্য অনুযায়ী, ভোরোনেঝে মোতায়েন করা লঞ্চারগুলো থেকে ইউক্রেনের সুমি, খারকিভ, চেরনিহिभ, পোলতাভা, কিয়েভ, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে হামলা চালানো সম্ভব।
রাশিয়া ভোরোনেঝ অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের জন্য ছয়টি লঞ্চার মোতায়েন করেছে। আইএসডব্লিউ বলছে, এসব লঞ্চার সম্মিলিতভাবে সর্বোচ্চ ১২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা রাখে।
এর ফলে রাশিয়ান ভূখণ্ড থেকেই ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য রাশিয়া আরও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পাবে। তবে ইউক্রেনের সামরিক বিশেষজ্ঞ আনাতোলি খ্রাপচিনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া একবারে হামলায় সব লঞ্চার ব্যবহার করবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
রাশিয়ার কাছে প্রায় ১৬০টি ইস্কান্দার লঞ্চার রয়েছে। প্রতিটি লঞ্চার দুটি করে ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। কিন্তু খ্রাপচিনস্কির মতে, রুশ বাহিনী সাধারণত একটি হামলায় ১৬ থেকে ২৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। उत्तर কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার ইস্কান্দার-এম ক্ষেপণাস্ত্রের বড় পার্থক্য রয়েছে নির্ভুলতা ও ওয়ারহেডের আকারে।
খ্রাপচিনস্কির দাবি, ইস্কান্দার-এম সাধারণত নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে প্রায় ৫ থেকে ২০ মিটারের মধ্যে আঘাত হানতে পারে। বিপরীতে, উত্তর কোরিয়ার কেএন-২৩ ক্ষেপণাস্ত্র কখনো কখনো লক্ষ্যবস্তু থেকে কয়েকশ মিটার এমনকি কয়েক কিলোমিটার দূরেও গিয়ে পড়ে।
তবে নির্ভুলতায় পিছিয়ে থাকলেও উত্তর কোরিয়ার এসব ক্ষেপণাস্ত্র অনেক বেশি ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে পারে। কেএন-২৩ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র সর্বোচ্চ প্রায় ১ টন বা ৯৭০ কেজির ওয়ারহেড বহন করা সম্ভব বলে ধারণা করা হয়। অন্যদিকে রাশিয়ার ইস্কান্দার-এম-এর প্রচলিত ওয়ারহেডের ওজন প্রায় ৪৮০ কেজি।
ফলে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে তুলনামূলকভাবে বড় গর্ত তৈরি ও আরও শক্তিশালী বিস্ফোরণজনিত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ভোরোনেঝে এসব লঞ্চার মোতায়েনের খবর থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়া তার হামলার ব্যবস্থায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র আরও ব্যাপকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে।
রাশিয়াকে সহায়তা করতে বিপুল সংখ্যক সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া, এমনটাই দাবি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির। তার মতে, রাশিয়ায় ৫০ হাজার পর্যন্ত উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন হতে পারে।
জুলাইয়ের শেষ দিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, রাশিয়া আরও ৩০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা নিয়ে আসতে চায়। এরপর গত সপ্তাহে তিনি দাবি করেন, পিয়ংইয়ং রাশিয়ার ভূখণ্ডে ৩০ থেকে ৫০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই সংখ্যার মধ্যে বর্তমানে যুদ্ধরত উত্তর কোরীয় সেনারাও আছেন কিনা, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক মন্তব্যে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, আধুনিক যুদ্ধ পরিচালনায় উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। এ সময় তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন প্রযুক্তিতে ইউক্রেনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। তার ঠিক দুই দিন পর জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া উত্তর কোরিয়া থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পেয়ে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন