প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
টানা ভারী বর্ষণের ফলে কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় ঘুমন্ত অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার সময় আহত হয়েছেন আরো একজন নারী।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত দেড়টার দিকে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মছনিয়া কাটার ডবল তলী এলাকায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মৃত শিশুদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ওবাইদুল ইসলামের ছেলে আবদুল মজিদ, ওবাইদুল ইসলাম (১৩) এবং মো. কাজলের মেয়ে রুমী আক্তার (১৩) রয়েছেন।
এই বিষয়ে বরইতলী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দু শুক্কুর জানান, ‘ঘুমন্ত অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে বাড়ির পেছনের পাহাড়ধসে দুই শিশু এবং একজন নারী চাপা পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। এরপর চাপা পড়া অবস্থায় স্থানীয় গ্রামবাসীরা দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন। বর্তমানে মরদেহ বাড়িতে রয়েছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি রাত ৩টার সময় খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলটি গভীর পাহাড়ি এলাকার মধ্যে অবস্থিত। সেখানে নৌকা কিংবা পায়ে হেঁটে যেতে হয়। তবুও আমরা স্থানীয়ভাবে পাহাড়ে বসবাসকারী ব্যক্তিদের সরে যেতে সতর্ক করেছিলাম। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু তবুও তারা সরেননি।’
ইউএনও জানান, আহত ওই নারীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে।
এ ঘটনার ফলে গত চার দিনে কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা ১৭ জনে পৌঁছেছে। মৃতদের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অন্তত ১৩ জন রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে, ৬ জুলাই দিবাগত রাতে টানা বর্ষণের মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে পেকুয়া উপজেলায় পাহাড়ধসে বসতঘরের দেওয়ালে চাপা পড়ে সাত বছর বয়সী একটি শিশুর মৃত্যু ঘটে। এসব ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার জেলায় ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরপরে গত রোববার থেকে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ৩টা পর্যন্ত জেলায় মোট ৫০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বর্তমানে সমুদ্রবন্দর এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত রক্ষিত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন