প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মাদারীপুরের কালকিনিতে পূর্ব শত্রুতার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারি শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানী ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালকিনি উপজেলার পশ্চিম আলীপুরের আড়িয়াল খাঁ নদীর খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত রাজন শিকদার হচ্ছেন কালকিনি উপজেলার ১৫৮নং চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং কালকিনি পৌরসভার দক্ষিণ রাজদী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মাজেদ শিকদারের ছেলে। অভিযোগের মধ্যে অভিযুক্ত লিপি বেগম হচ্ছেন উপজেলার পূর্ব এনায়েত নগর ইউনিয়নের চর আলীপুর গ্রামের শাহ আলম মোল্লার স্ত্রী এবং ১৫৮নং চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগমের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের টিফিন বিতরণ নিয়ে রাজন শিকদারের বিরোধ তৈরি হয়। এর ফলে প্রায়শই তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হতো। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের টিফিন কিছু খাবার লিপি বেগম তার বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইলেন। এ নিয়ে আপত্তি জানান অপর শিক্ষক রাজন। এ পরিণতি হিসেবে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
বিদ্যালয় ছুটি শেষে, রাজনের ওপর পশ্চিম আলীপুরের খেয়াঘাট এলাকায় অতর্কিতে হামলা চালানোর অভিযোগ লিপি বেগমের ভাই মিলন মোল্লার বিরুদ্ধে ওঠে। রাজনের ডান পা ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি তার শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হয়েছে। রাজনের কষ্টের আওয়াজ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে প্রথমে ভর্তি করা হয় কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাত ১২টার দিকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনার দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও তার স্বজনরা। তবে অভিযুক্ত লিপি বেগম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে, পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক রাজন শিকদার অভিযোগ করেছেন, ‘প্রায়শই শিক্ষার্থীদের টিফিনের প্যাকেট বাড়িতে নিয়ে যায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক লিপি বেগম। এর প্রতিবাদ করায় হামলা করেছে লিপির ভাই মিলন মোল্লা ও তার সহযোগীরা। আমার এক পা ভেঙে গেছে। আরেক পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি এ ঘটনার কঠিন বিচার চাই।’
অভিযুক্ত লিপি বেগম দাবি করেছেন, ‘রাজন শিকদার প্রায়ই আমার উপর খারাপ আচরণ করে। তিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে বারান্দায় বসে থাকেন। আমি প্রতিবাদ করলেই তিনি মাঝে মাঝে আমার ওপর চড়াও হন। সুতরাং, আমার জানা নেই কে তার ওপর হামলা চালিয়েছে।’
এদিকে, মিলন মোল্লার ব্যবহৃত মোবাইলে কল দেয়া হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মাদারীপুরের কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেছেন, ‘শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় দোষিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন