প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যশোরের কেশবপুরের ঘের ব্যবসায়ী রঞ্জন মন্ডল (৬০) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দুজনকে গ্রেফতার করেছে।
সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রঞ্জনকে হত্যার পর ইঞ্জেকশন পুশ করে তার মরদেহ বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
তবে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদলিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতারকৃতদের আটক করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মহিদিয়া মধ্যপাড়ার বিষ্ণুপদ ধরের ছেলে মিঠুন ধর এবং সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দক্ষিণ ভাদলিয়া গ্রামের মৃত জব্বার গাজীর ছেলে মো. আব্দুল হান্নান গাজী।
তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন জানান, গত ৭ নভেম্বর মনিরামপুর উপজেলার হেলারঘাট এলাকায় মুক্তেশ্বরী নদী থেকে রঞ্জন মন্ডলের মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তিনি কেশবপুর উপজেলার কালিচরণপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন।
গত ৬ নভেম্বর রঞ্জন বাড়ি থেকে কাটাখালী বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা দেবাশীষ মন্ডল বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে সিআইডি হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে সংস্থাটি।
এসআই দেলোয়ার হোসেন আরও জানান, নিহতের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও স্থানীয় অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানা যায়, ৬ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রঞ্জন মন্ডল কাটাখালী বাজারে পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধরের চেম্বারে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে মিঠুনও নিখোঁজ ছিলেন।
তদন্তে জানা যায়, মিঠুন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদলিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এই কাজে তাকে সহায়তা করছিলেন আব্দুল হান্নান গাজী। পরে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মিঠুন জিজ্ঞাসাবাদে ইঞ্জেকশন পুশ করে রঞ্জনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন ও আংটি এবং মরদেহ বহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ইঞ্জেকশনের পটও উদ্ধার করা হয়েছে।
কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা জানার চেষ্টা চলছে বলে জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন