প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বখ্যাত শিক্ষা সাময়িকী ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ (টিএইচই)-এর ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং-২০২৭’-এ বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানটি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ধরে রেখেছে। এবারের র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ১০০১ থেকে ১২০০-এর মধ্যে অবস্থান করছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তালিকায় বিশ্বের ১১৮টি দেশ ও অঞ্চলের ২ হাজার ২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।
যবিপ্রবির বিভিন্ন সূচকের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শিক্ষাদানে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কোর ১৫.৬, গবেষণা পরিবেশে ১৩.৭, গবেষণার মানে ৭০.৬, শিল্প-সম্পৃক্ততায় ২১.২ এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ৪৫.৯। গবেষণার মান সূচকে যবিপ্রবির স্কোর ৭০.৬। আগেরবারের তুলনায় শিক্ষাদান, গবেষণা পরিবেশ ও শিল্প-সম্পৃক্ততায় যবিপ্রবির স্কোর বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের অন্যান্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১২০১ থেকে ১৪০০-এর মধ্যে অবস্থান করছে। ফলে এবারের তালিকায় যবিপ্রবি দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৮০১ থেকে ১০০০-এর মধ্যে রয়েছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। ১০০১ থেকে ১২০০-এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি), যবিপ্রবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। গতবার ৮০১ থেকে ১০০০-এর মধ্যে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবার ১০০১ থেকে ১২০০-এর মধ্যে অবস্থান করছে।
এবারের র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাদান, গবেষণা পরিবেশ, গবেষণার মান, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও শিল্প-সম্পৃক্ততা এই পাঁচটি ক্ষেত্রে মোট ১৮টি সূচকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সরবরাহ করা তথ্য, গবেষণা প্রকাশনা ও সাইটেশন, অ্যাকাডেমিক সুনাম, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এ র্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে। ২০২৭ সালের সংস্করণে আগের তুলনায় আরও বিস্তারিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান দেখাতে নতুন ও ছোট পরিসরের অবস্থান-ধাপও যুক্ত করেছে টিএইচই।
যবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান মন্তব্য করেছেন, সারা দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যবিপ্রবি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তিনি বলেন, "এ অর্জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। সুশৃঙ্খল আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।"
যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেছেন, এই অর্জন যবিপ্রবির অ্যাকাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। তিনি উল্লেখ করেন, "শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা, উদ্ভাবন ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে ধারাবাহিক উৎকর্ষের প্রতিফলন এ সাফল্য। ভবিষ্যতে গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যবিপ্রবির অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য কাজ করা হবে।"
যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, এ অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একক ব্যক্তি বা বিভাগের নয়; এটি যবিপ্রবি পরিবারের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি বলেন, "ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যবিপ্রবিকে আরও ভালো অবস্থানে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন