প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি শেষ হওয়া চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক অর্জন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে দুদেশের সম্পর্ক নতুন কৌশলগত উচ্চতায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকায় চীনা দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন, ‘এই সফরের অন্যতম প্রধান অর্জন হলো চীন-বাংলাদেশ কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপকে আরো গতিশীল করে তোলা, যাতে নতুন যুগে একটি অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি গড়ে তোলা সম্ভব হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘উভয় দেশ উচ্চ-পর্যায়ের সফর বিনিময় বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি কৌশলগত সংলাপ ব্যবস্থা (স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগ মেকানিজম) প্রতিষ্ঠা এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক একটি ‘২+২’ সংলাপ ব্যবস্থার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।’
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘চীন সবসময়েই বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়নকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখে এবং বাংলাদেশি জনগণের প্রতি ভালো প্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ নীতিতে অবিচল রয়েছে। বিশ্ব পরিস্থিতি যতই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সামগ্রিক দিকনির্দেশনার প্রতি চীনের প্রতিশ্রুতি কখনোই নড়চড় হবে না। চীন সবসময়ই বাংলাদেশের একজন বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী এবং ভালো অংশীদার থাকবে।’
ইয়াও-এর মতে, চীনই প্রথম দেশ যিনি কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় দলিলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সমর্থন করেছে। অপরদিকে, বাংলাদেশও ‘এক চীন নীতি’র প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্বিবাহ করেছে এবং তাইওয়ানের যেকোনো ধরনের স্বাধীনতার বিরোধিতার কথা উল্লেখ করেছে।
আর্থিক সহযোগিতার বিষয় বৈঠকে তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘দুই দেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় উচ্চ-মানের সহযোগিতা এগিয়ে নিতে, নিজেদের উন্নয়ন কৌশলগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে এবং গ্রিন ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বাণিজ্য, অর্থায়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।’
তিনি জানান, বিনিয়োগ সহযোগিতা সহজতর করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ চীনে তার প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ কার্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। সফরের সময় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা এবং একটি কৃষি বাণিজ্য প্রটোকল। এগুলো উন্নয়ন, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, বন্দর, শিল্পাঞ্চল, গণমাধ্যম, শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, সবুজ উন্নয়ন এবং রপ্তানি বৃদ্ধির মতো ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (টিআরসিএমআরপি) সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত চীনের ধারাবাহিক সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘একটি বিষয়ে আমি পরিষ্কার করে বলছি, তিস্তা নদী প্রকল্পের বিষয়ে চীনের প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তিস্তা নদী সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের জন্য চীন তার সক্ষমতার মধ্যে সমর্থন ও সহায়তা দিতেই থাকবে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতার বিষয়ে কাজ করবে। তিস্তা নদী বাংলাদেশের একটি প্রকল্প।’
প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর’-কে একটি নতুন কৌশলগত সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণের বিষয়টি নতুন নয়। প্রায় ১৫ বছর আগে ‘বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার’ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু তখন কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার স্বার্থে চীন ‘বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর’ নির্মাণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
তিস্তা নদী প্রসঙ্গে ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘এই সফরের সময়ে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (টিআরসিএমআরপি) ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কারণ এটি লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা দ্বারা প্রভাবিত।’
গত সোমবার (২২ জুন) রাতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে যোগ দিতে চীনের দালিয়ানে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দুদিন বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে বেইজিং পৌঁছান। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি’র সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে উভয়পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়া তারা বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সাক্ষী হয়েছেন এবং একটি যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীনে প্রথম বিদেশ সফর শেষ করে গত শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিং থেকে দেশে ফেরেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন