প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সাথে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঠানো ১১ সদস্যের শিক্ষক প্রতিনিধি তালিকা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি থেকে জানা যায়, সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সাথে মতবিনিময়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিদের তালিকা চেয়েছিল। এই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে ১১ সদস্যের তালিকা ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ গোলাম মোস্তফার কাছে পাঠানো হয়।
তবে তালিকাটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবল সমালোচনা শুরু হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় সমন্বয়ক ও প্রতিনিধিরা এই তালিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আরমান হোসেন বলেন, "এখানে যাদের নাম দেখতেছি ২/১জন ছাড়া তাদের কোনো অবদান ছিলো না এই জুলাইয়ে, থাকলে প্রমাণ দেখাক। বরং এই লিস্টে সেই সকল শিক্ষকদের নাম নেই যাদের থেকে আমরা অনেক সাপোর্ট পেয়েছি।"
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে পরিষ্কারভাবে জানাতে বলেন কিসের ভিত্তিতে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শামসুর রহমান সুমন মন্তব্য করেন, "নিজের চোখে দেখা, নেতৃত্ব দেয়া জুলাইয়ের এত বড় বিকৃতি কখনোই মেনে নিতে পারবো না! ধিক্কার জানাই! বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এতটাও নিচে নামবেন ভাবতে পারি নাই।" তিনি আরও বলেন, "এই তালিকায় অধিকাংশ ব্যক্তি আছেন যারা আওয়ামী খোলস পাল্টিয়ে নব্য বিএনপি হয়ে গেছেন। প্রশাসনিক পদ পদবি নিতে নিয়েছেন, সংবিধান সংশোধন কমিটি সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নিতে পারেন, কোন আপত্তি নাই। কিন্তু 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানে' অবদান রেখেছেন এটা মানতে পারব না। অনতিবিলম্বে এই তালিকা প্রত্যাহার ও সংশোধন করুন।"
ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত রাফি বলেন, "আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কী মানদণ্ডে, কী প্রক্রিয়ায় এই তালিকা করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, এটি ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ইতিহাস। তাই প্রকৃত অবদানকারীদেরই স্বীকৃতি দেওয়া হোক।"
বেরোবি শিবির সভাপতি রাকিব মুরাদ বলেন, "জুলাই গনঅভ্যুত্থান নিয়ে বিকৃতি কোনভাবেই কাম্য নয়। জুলাইয়ে অবদান ছিল না এমন শিক্ষকের সংখ্যায় তালিকায় বেশি। এটাও প্রকাশ করুণ- জুলাইয়ে তাদের কি কি অবদান ছিলো নতুবা এই তালিকা আগে সংশোধন করতে হবে।"
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
প্রেরিত তালিকায় ১১ শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত আছেন: অধ্যাপক হিসেবে ড. মো. মতিউর রহমান, ড. মো. ফেরদৌস রহমান, ড. মো. ইলিয়াছ প্রামানিক। সহযোগী অধ্যাপকদের মধ্যে ড. মো. তানজিউল ইসলাম, মাসুদ রানা, ড. মনিরুজ্জামান, মাসুদ উল হাসান। সহকারী অধ্যাপকদের মধ্যে মোঃ ইউসুফ, ফারজানা জান্নাত তসি, ইফ্ফাত আরা বাধঁন, শরিফা আক্তার নিপা নামও রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন