প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা করার পর লাশ গুমের মামলার অভিযোগে আবু বকর ছিদ্দিক নামের জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। তাকে ভাড়াতে খুনি দিয়ে সাবেক স্ত্রী সালেহা বেগমকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হিসেবে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে আবু বকর ছিদ্দিক আত্মসমর্পণ করে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন এবং একই ইউনিয়নের চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত সালেহা বেগম ছিলেন একজন বয়স্ক নারী। তার সঙ্গে গোপনে আবু বকরের বিয়ে হয়েছিল। পরে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। জমি কেনার কথা বলে সালেহার কাছ থেকে আবু বকর ৩০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। তবে জমি কিনে না দিয়ে তিনি আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। এ কারণে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ফলে মো. সেলিম নামের এক ভাসমান ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকায় ভাড়া করে সালেহাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আবু বকর।
পুলিশের কাছে তথ্য আছে যে, ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে সালেহা বেগমকে হত্যা করা হয়। এর পরদিন, ১৬ জুন, কমলনগরের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে নুনু সর্দারের পরিত্যক্ত ভিটায় তার মরদেহ আবিষ্কার করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তদন্ত করার জন্য পুলিশ এ বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে।
তদন্তের সময় পুলিশ সেলিম নামের ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। আদালতে দেয়া তার জবানবন্দিতে সেলিম জানায়, সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে প্রথমে গলা টিপে অচেতন করেন। তারপর তাকে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যা নিশ্চিত হওয়ার পর সালেহার কাছের স্বর্ণালংকার নিয়েও সেলিম পালিয়ে যান।
বাদীর আইনজীবী আমজাদ হোসাইন জানান, সেলিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে থানার পুলিশ সেলিম এবং আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিল করে। হত্যার দায়ে সেলিম কারাগারে আছেন, কিন্তু প্রধান অভিযুক্ত আবু বকর তখন পলাতক ছিলেন। এজন্য আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
গত সোমবার (৩ আগস্ট) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান। মামলাটি এখন আদালতে বিচারাধীন।
নিহত সালেহা বেগমের ছেলে শরীফ উদ্দিন এবং মো. আরিফুল ইসলাম জানান, আসামি আবু বকর ছিদ্দিক জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িত হলেও তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন। অর্থের লোভে পড়ে তিনি সকলের অজান্তে তাদের মাকেও বিয়ে করেছিলেন। তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের জন্য ন্যায়বিচার এবং দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফিজ উল্লাহ বলেন, ‘স্ত্রী হত্যার দায়ে অভিযুক্ত আবু বকর এখন জামায়াতের কোনো পদে নেই। তবে আগে তিনি আমাদের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন