প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মুন্সীগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা মিটিংয়ে জামায়াতের আমিরকে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ পরে তাকে সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
সভায় মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো আব্দুল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাছিবুর রহমান এবং শ্রীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলারক্ষা বিষয়ক সভা চলছিল। সভায় উপজেলার ৮৫টি পূজামণ্ডপের সভাপতি সম্পাদকসহ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সবার বক্তব্য শেষ হলে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। এ সময় পেছন দিক থেকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির নুরুজ্জামান মীর বক্তব্য নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিএনপির নেতারা তখন তাকে ধাক্কা দিয়ে হলরুম থেকে বের করে দেন। পরে তার পরিচয় জানার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ অন্যান্যরা তাকে হলরুমে ডেকে এনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন।
নুরুজ্জামান মাইক হাতে নিতে গেলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান বক্তব্যে ‘জামায়াত ইসলামী আওয়ামী লীগের মতো দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে’ এই অংশের প্রতিবাদ জানান। তখন সেখানে উপস্থিত বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা তাকে মারধর শুরু করে। পুলিশ পরে তাকে রুম থেকে বের করে নিয়ে যায়। মারামারির ভিডিও ধারণ করার সময় কয়েকজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগও ওঠে।
এই ঘটনার পর আহত নুরুজ্জামান মীর বলেন, প্রথমে বক্তব্য দিতে চাইলে তাকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং পরে বক্তব্য দেওয়ার সময় মারধর করে বের করে দেওয়া হয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বলেন, তিনি যে উপজেলা জামায়াতের আমির, কেউ তাকে চিনেও না। তিনি তার বক্তব্যে জামায়াতের নাম উল্লেখ করে কিছু বলেননি। নুরুজ্জামান সংসদ সদস্যের বক্তব্য দেওয়ার সময় পরিচয় না দিয়ে বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাকে কেউ চিনে না বলেই সমস্যা তৈরি হয়। তবে এই ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নয়।
শ্রীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, সামান্য ভুল বুঝাবুঝির কারণে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাছিবুর রহমান বলেন, সাময়িকভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু পরে তা ঠিক হয়ে যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন