প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় আধুনিক ৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর আগেই দফায় দফায় চুরির ঘটনা ঘটে গেছে।
এই চুরির ঘটনায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার সরকারি মালামাল ও মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম খোয়া যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
দীর্ঘদিন অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকা হাসপাতালটিতে সংঘবদ্ধ চক্র একাধিকবার চুরি চালিয়েছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু, এই ক্ষতির দায় নিতে রাজি নয় সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ।
শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখীপাড়া এলাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। সম্প্রতি, হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষের তালা ভেঙে জেনারেটরের কয়েল, এসি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশসহ প্রায় ৩৪ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়।
এভাবে আগেও কয়েক দফা চুরির ঘটনা ঘটলেও সেখানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ বর্তমানে প্রায় অর্ধকোটি টাকায় পৌঁছেছে, তথ্য জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
চারতলা মূল ভবনের পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য পৃথক আবাসনসহ আরও পাঁচটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। হাসপাতালটিতে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার সঙ্গে পাঁচ শয্যার একটি আইসিইউ ইউনিটও রয়েছে। যদিও সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরও স্থানীয় এক ব্যক্তির দায়ের করা স্থানান্তরসংক্রান্ত মামলা থাকার কারণে ২০২৪ সালের মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত উদ্বোধন স্থগিত হয়ে যায়। এরপর থেকেই হাসপাতালটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে যায়।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর না হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুরুতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ছিল। পরে, জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে সেখানে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। সেনা সদস্যরা নির্বাচনের পরে চলে গেলে ভবনটি পুনরায় অরক্ষিত হয়ে পড়ে। ওই সুযোগেই সংঘবদ্ধ চক্র একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটায়।
এই ঘটনার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটি দীর্ঘদিন চালু না হওয়ায় সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। তারা দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার পাশাপাশি চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
চুরির ঘটনায় বর্তমানে দায়িত্ব নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জনের দাবি, ভবনটি এখনো তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। অপরদিকে, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের দায়িত্ব ছিল নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা।
শরীয়তপুর স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানান, প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি চুরি যাওয়া মালামালের তালিকা প্রস্তুত করেছে, এমনটাই জানা গেছে। এই ঘটনার ফলে একটি মামলা করা হয়েছে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, ‘চুরির ঘটনার পর একটি মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই আধুনিক এই হাসপাতালটি নির্মাণ হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই বারবার চুরির ঘটনায় একদিকে বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পদের ক্ষতি হয়েছে, অন্যদিকে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এলাকার মানুষের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন