প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
এক যুগ আগে ফরিদপুরে মো. নুরুজ্জামান নামে এক নিকাহ রেজিস্ট্রারের (কাজী) নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছিল বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে। পরবর্তীতে আইনী লড়াইয়ে দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করার পর আদালতের আদেশমতে গত দুই বছর আগে তার নিবন্ধন পুনরায় স্থগিত করা হয়। কিন্তু এই স্থগিতাদেশকে উপেক্ষা করে জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্টারের বিরুদ্ধে পুনরায় কর্মরত করার অভিযোগ উঠেছে। এতে অতিরিক্ত দায়িত্বরত নিকাহ রেজিস্ট্রারকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
উচ্চ আদালত ও জেলা রেজিস্ট্রারের বিভিন্ন নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে জেলার ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের দায়িত্বরত নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত করা হয়। সেসময়ে তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার তার নিবন্ধন বাতিল করেছিলেন। এরপর ওই ইউনিয়নের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাশ্ববর্তী চুমুরদি ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ উল্যাহকে দেওয়া হয়। পরে নিবন্ধন বাতিলের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের হলে আদালত চার মাসের জন্য পুর্নবহালের আদেশ দেন। এই আদেশ চার মাসের পর ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই সময়ের পরে ২০২৪ সালের ৭ মার্চ জেলা রেজিস্ট্রারের এক আদেশে অতিরিক্ত দায়িত্ব ফিরে পান মোহাম্মদ উল্যাহ।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৭ মে আদালতের একটি রায়ে মো. নুরুজ্জামান পুনরায় দায়িত্ব ফিরে পান, কিন্তু ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে মামলা করেন মোহাম্মদ উল্যাহ। সেই অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি চেম্বার আদালতের আদেশে পুনরায় নিবন্ধন স্থগিত করা হয় এবং মোহাম্মদ উল্যাহকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়। যে বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় বিরাজমান, কিন্তু চলতি বছরের ১২ মার্চ জেলা রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক আদেশে নুরুজ্জামানকে পুর্নবহাল রাখা হয়।
ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উচ্চ আদালতে দায়েরকৃত পিটিশনের ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর রায়ের প্রেক্ষিতে নুরুজ্জামানের নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে। একই সাথে অতিরিক্ত দায়িত্বরতকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
অতিরিক্ত দায়িত্বরত মোহাম্মদ উল্যাহ অভিযোগ করেছেন যে, নুরুজ্জামানের লাইসেন্স আদালতের আদেশে বর্তমান সময়ে স্থগিত রয়েছে, কিন্তু তা উপেক্ষা করে এবং নথি যাচাই না করেই তাকে অবৈধভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তিনি এই আদেশ বাতিলের দাবি করেছেন।
তিনি আরও জানান যে, তাকে সরকার থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি অভিযোগ করেন যে, নুরুজ্জামান তার জীবনকে নষ্ট করে দিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মানবপাচারের মামলা সহ বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বলেন, "আমারতো কোনো দোষ ছিল না- কিন্তু আমাকে দিনের পর দিন হয়রানি করা হয়েছে।" তিনি জানান যে, বর্তমানে তাকে প্রাণনাশেরও হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে।
ফরিদপুরের সচেতন নাগরিক কমিটির সনাকের সাবেক সভাপতি এডভোকেট শিপ্রা গোস্বামী মন্তব্য করেছেন যে, আদালতের যেকোনো নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ মেনে চলা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। তিনি বলেন, "এটি কেউ না করলে তিনি অবশ্যই আদালত অমান্য করার অপরাধে অভিযুক্ত হবেন। আমাদের আইনের শাসন বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যই আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।"
এ প্রসঙ্গে ফরিদপুর জেলা রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার সঙ্গে কোনও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন