প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বর্তমান সরকার অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজস্বসহ অর্থনৈতিক পুরো বিষয়টার কী অবস্থা বা বিগত একযুগ কেমন ছিল, কী ছিল, কীভাবে হয়েছে? এটা আমরা যারা এনবিআরের সঙ্গে সম্পৃক্ত না, আপনারা আমাদের থেকে অনেক বেশি ভালো জানেন। আপনারা ডিপার্টমেন্টের কিছু ফ্যাসিলিটির কথা বলেছেন। অবশ্যই সেটা প্রয়োজন আছে। কারণ এফিশিয়েন্সি বাড়াতে হলে সাপোর্টিং কিছু বিষয় প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে এটাও একটু বিবেচনা করতে হবে— আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন যে, আমরা চেষ্টা করছি সরকারের অনেক জায়গা থেকে অনেক খরচ কমিয়ে ফেলতে। যেগুলো আমাদের কাছে মনে হয়েছে প্রয়োজন নেই।
এরকম অনেকগুলো জায়গায় দেখছি আমরা খরচ হচ্ছে, সেখান থেকে খরচ কমানোর চেষ্টা করছি। তবে অবশ্যই যেখানে প্রয়োজন আছে, সেখানে অর্থ ব্যয় করা জরুরি। যেখানে যেই ফ্যাসিলিটি বা ইনফ্রাস্ট্রাকচার দরকার সেটা আমরা অবশ্যই করবো। তবে যেহেতু এসব কিছুই হবে ট্যাক্সপেয়ারের পয়সা দিয়ে এবং ট্যাক্সপেয়ারের কাছ থেকে তার যেটা প্রযোজ্য ট্যাক্স, যেটা সে সরকারকে-রাষ্ট্রকে দেবে, এটাকে সুন্দর করে তার কাছ থেকে আদায় করে নিয়ে আসার দায়িত্বটা আপনাদেরকেই পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, আপনাদেরকে এক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। কতগুলো পারসেপশন তৈরি হয়েছে, সেটাই হচ্ছে আমাদের চ্যালেঞ্জ। সেজন্যই বর্তমান সরকার বারবার বলার চেষ্টা করছে যে, আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। সকলেই মিলে আমরা একটা পরিবর্তনের চেষ্টা করি। যেই পরিবর্তনটাকে সবাই ভালো পরিবর্তন বলবে। এখানে আমাদের সবার কন্ট্রিবিউট করার মতো অবস্থা আছে। কন্ট্রিবিউট করার মতো স্পেস আছে। আসুন আমরা সবাই মিলে কাজ করি। আমরা যদি যার যার কাজ, দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের চেষ্টা করি— সেখানেই আমরা চেঞ্জটা আনতে পারবো।
এক্ষেত্রে আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করবো। আপনারা সরকারকে দয়া করে সহযোগিতা করবেন। তবে এখানে একটা ভুল পারসেপশন আছে যে, এনবিআর মানুষের ওপরে ট্যাক্সের জন্য চাপ দেয়। এটা একটা ভুল ধারণা। এই ধারণা ভাঙতে প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা ট্যাক্স দেবেন তাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে। ট্যাক্সপেয়ারদের ওপরেও যাতে কোনও প্রেশার না হয়। বরং তারা অনুপ্রাণিত হন। মানুষ যাতে অনুপ্রাণিত হয় যে, ঠিক আছে আমার ট্যাক্সটা দিতে হবে। আমার ট্যাক্সটা দিলে আমরা স্বাস্থ্য সেবা পাবো। ট্যাক্সটা দিলে আমাদের সন্তানেরা এডুকেশনের সুবিধা পাবে। ট্যাক্সটা দিলে আরও সোশ্যাল বেনিফিট অর্থাৎ মানুষের জন্য সরকার বা রাষ্ট্র বিভিন্ন ভালো কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
এই বিষয়গুলো যাতে মানুষের মধ্যে আসে, সেই জন্য আপনাদেরকে মনোযোগী হতে হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলন মঞ্চে উপস্থিত আছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন