প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) সময় শেষ হওয়ায় উত্তেজনা আবারও বেড়ে যেতে শুরু করেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সমঝোতার সময় শেষ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আর তা বাড়াতে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা থমকে গেছে।
ট্রাম্প ইরানকে ‘সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ’ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে, তিনি হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে, ইরানের সঙ্গে গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) সময় সোমবার শেষ হয়েছে। এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুতর’ লঙ্ঘনের কারণে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমার আর কোনো কার্যকারিতা নেই। তিনি বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে জবাব দিতে দেশটির বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে করা কাঠামোগত সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওই সমঝোতা হয়েছিল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না’ যখন জানতে চাওয়া হয়, তিনি কি ইরানের সঙ্গে সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা শেষ হলেও এখনও কোনো পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হয়নি। জুনের সমঝোতায় বৃহত্তর একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনার এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। দুই দেশ চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনা করতে চায়। কিন্তু তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চুক্তি চায়, সেটিতে রাজি নয় তেহরান।
ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তি করতে চায়। কিন্তু আমি যে ধরনের চুক্তিকে প্রয়োজনীয় মনে করি, তারা সেই ধরনের চুক্তি করবে না। সেখানে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। আমরা সেখানে একটি কারণে আছি- ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।
সম্প্রতি, ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছিলেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেন। ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয়, এটি দারুণ একটি ধারণা।
ট্রাম্প দাবি করেন, নৌ অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এটি নিয়ন্ত্রণ করছি। نৌ অবরোধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছি। আমাদের অবরোধ রয়েছে এবং এর মাধ্যমেই আমরা প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করছি। এটিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করার ধারণাটি আমার ভালো লাগে।
তার দাবি, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তবে তিনি মন্তব্য করেন, ইরান কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধ অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে।
ট্রাম্প আশাও প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কারণে প্রতি সপ্তাহে ওই অঞ্চলে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা প্রতি সপ্তাহে হয়তো লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে আনছি। হয়তো এটি বন্ধ হয়ে যাবে, অথবা আরও বেশি উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, প্রণালিটি খোলা আছে, তেলের দাম কমছে এবং আরও কমতে থাকবে- যদি না আমরা এখনকার চেয়ে অনেক বেশি কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান ‘বড় সমস্যার মধ্যে’ রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন