প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশব্যাপী নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঢাকা শাটডাউন কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে উত্তেজনার মাঝে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একজন কর্মীকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের কারণে তাকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অভি ইসলাম নামের ওই শিক্ষার্থীকে আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে তাকে কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেনের কক্ষে নেওয়া হয়।
সেখানে ডিনের নেতৃত্বে একটি শুনানি বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক শাহ আলম চৌধুরী, রিসার্চ সেল পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মিলি রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী প্রক্টর শামীম হামিদী উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। তারা আরও জানান, জুলাই আন্দোলনের পক্ষের বিভিন্ন সাংগঠনিক ফেসবুক পেজের পোস্টে তিনি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতেন।
শুনানিতে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও অভির বক্তব্য শোনার পর অভিভাবকদের উপস্থিত হতে বলা হয়। কিন্তু দিনাজপুরের বাসিন্দা হওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত হতে পারেননি। পরবর্তীতে আগামী মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তাদের শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, মুচলেকা নিয়ে অভিকে তার খালার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে অভি বা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কোনো হামলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্ধারিত শুনানিতে অভি বা তার অভিভাবকরা উপস্থিত না হলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট ও কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এসব পোস্টে হুমকি, উসকানিমূলক বক্তব্য ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের দাবি, তারা বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের অবহিত করার চেষ্টা করেছেন। তবে এবার তারা প্রক্টরের কাছে না গিয়ে সরাসরি ডিনের কাছে বিষয়টি জানান। অতীতের কয়েকটি ঘটনায় প্রক্টরের কাছে অভিযোগ জানিয়েও প্রত্যাশিত ব্যবস্থা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন