প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসনপথ হলো ইবি-২ গ্রিন কার্ড। এই শ্রেণিতে আবেদন করার জন্য উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী এবং বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসায় বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে যোগ্য আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও অভিবাসনের সুযোগ পেতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) এর তথ্য অনুযায়ী, ইবি-২ অভিবাসন শ্রেণিতে মূলত দুই ধরনের আবেদনকারী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রথমত, উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী এবং দ্বিতীয়ত, বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসায় বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি। এ ছাড়া জাতীয় স্বার্থে ছাড় বা ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার (এনআইডব্লিউ) নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যার আওতায় যোগ্য ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্তে নিয়োগকর্তার স্পনসর ছাড়াই আবেদন করতে পারেন।
উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য সুযোগ
ইবি-২-এর প্রথম শ্রেণিতে আবেদন করতে সাধারণত স্নাতক ডিগ্রির চেয়ে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। মাস্টার্স ও ডক্টরেট ডিগ্রিধারীরা এ ক্ষেত্রে আবেদন করতে পারেন। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রির পর অন্তত পাঁচ বছরের ক্রমবর্ধমান দায়িত্বসম্পন্ন পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে সেটিকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
তবে শুধুমাত্র উচ্চতর ডিগ্রি থাকলেই আবেদন অনুমোদনের নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রে যে পেশায় কাজ করার জন্য আবেদন করা হচ্ছে, সেটিও সাধারণত উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাদার কাজ হতে হবে। সংশ্লিষ্ট পদে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আবেদনকারীর ডিগ্রির প্রাসঙ্গিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডিগ্রি ছাড়াও বিশেষ দক্ষতায় আবেদনের সুযোগ রয়েছে। উচ্চতর ডিগ্রি না থাকলেও বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসায় বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা ইবি-২ শ্রেণিতে আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হয়, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে তার দক্ষতা সাধারণভাবে প্রত্যাশিত মানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
যোগ্যতা প্রমাণের জন্য নির্ধারিত ছয়টি মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত তিনটি পূরণের নথি জমা দিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, একই পেশায় অন্তত ১০ বছরের পূর্ণকালীন কাজের অভিজ্ঞতা, পেশাগত লাইসেন্স বা সনদ, দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন, পেশাজীবীদের সংগঠনের সদস্যপদ এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অবদানের জন্য স্বীকৃতি।
তবে তিনটি মানদণ্ড পূরণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্যতা নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর সামগ্রিক দক্ষতা ও প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে তার যোগ্যতা মূল্যায়ন করা হয়।
জাতীয় স্বার্থে ছাড়ে স্পনসর ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। সাধারণ ইবি-২ আবেদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তার চাকরির প্রস্তাব এবং শ্রম সনদসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সাধারণত প্রয়োজন হয়। তবে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের ক্ষেত্রে এসব শর্ত থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ ব্যবস্থায় আবেদনকারী নিজেই আই-১৪০ ফরমের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। তবে ছাড় পেতে হলে প্রস্তাবিত কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব ও জাতীয় তাৎপর্য রয়েছে, আবেদনকারী সেই কাজ এগিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত অবস্থানে আছেন এবং চাকরির প্রস্তাব ও শ্রম সনদের শর্ত মওকুফ করা যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক স্বার্থে উপকারী হবে—এমন প্রমাণ দিতে হয়।
বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক (স্টেম) ক্ষেত্রে গবেষণা এবং গুরুত্বপূর্ণ বা উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের আবেদন এ ব্যবস্থায় বিবেচিত হতে পারে। তবে শুধু স্টেম বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি থাকলেই জাতীয় স্বার্থে ছাড় পাওয়া নিশ্চিত নয়।
পরিবারের সদস্যদেরও নেওয়ার সুযোগ
ইবি-২ শ্রেণিতে যোগ্য আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও নির্ধারিত শর্তে অভিবাসনের সুযোগ পেতে পারেন। তবে মূল আবেদনকারীর আই-১৪০ আবেদন অনুমোদিত হলেই পরিবারের সবাই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড পাবেন, বিষয়টি এমন নয়। ভিসার প্রাপ্যতা, প্রয়োজনীয় আবেদন এবং অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়।
সব মিলিয়ে, উচ্চতর ডিগ্রিধারী এবং বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-২ গ্রিন কার্ড স্থায়ী বসবাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। তবে আবেদন করার আগে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, প্রস্তাবিত কাজ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিবাসনবিধির সামঞ্জস্য যাচাই করা জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন