প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাজারে বর্তমানে রুপালি ইলিশের প্রচুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সব ইলিশই পদ্মার নয়। ভারত অথবা মিয়ানমার থেকে আসা ইলিশও অনেক সময় পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। দেখতে অনেকটা একই রকম হওয়ায় ক্রেতারা সহজেই বুঝতে পারছেন না কোনটি আসল পদ্মার ইলিশ এবং কোনটি অন্য এলাকার।
অভিযোগ রয়েছে, কম দামে কেনা এসব ইলিশ অনেক সময় উচ্চমূল্যে পদ্মার ইলিশ বলে বিক্রি করা হয়। এর ফলে ক্রেতারা স্বাভাবিকভাবেই প্রতারিত হচ্ছেন।
তবে কিছুটা খেয়াল করলে বাহ্যিক গঠন, চোখ, গায়ের রং এবং স্বাদ-ঘ্রাণের মধ্যে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়, যা পদ্মার ইলিশ চেনার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। এখানে চারটি সহজ উপায় উল্লেখ করা হলো।
১. মাছের গঠন ও আকৃতি দেখুন
পদ্মার ইলিশ সাধারণত তুলনামূলকভাবে খাটো হয়ে থাকে। তবে এর মাঝের অংশ বেশ গোলগাল, চওড়া এবং ভরাট থাকে। পিঠের অংশ কিছুটা উঁচু এবং লেজের দিকও তুলনামূলক পুরু হয়।
অন্যদিকে গুজরাটের ভারুচ বা পশ্চিম উপকূল থেকে আসা ইলিশ সাধারণত লম্বাটে এবং সরু প্রকৃতির হয়ে থাকে। এদের পেট বা মাঝের অংশ নদীর ইলিশের মতো অতটা ভরাট দেখায় না।
সুতরাং বাজারে ইলিশ কেনার সময় প্রথমেই মাছটির শরীরের গঠন ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
২. চোখের দিকে তাকান
ইলিশ চেনার আরেকটি উপায় হলো মাছের চোখের দিকে নজর দেওয়া।
টাটকা পদ্মার ইলিশের চোখ সাধারণত পরিষ্কার, স্বচ্ছ এবং উজ্জ্বল দেখায়। অন্যদিকে গুজরাট থেকে আসা ইলিশ দীর্ঘ সময় বরফে থাকার কারণে চোখের চারপাশ কিছুটা কালচে লাল বা রক্তবর্ণ হয়ে যেতে পারে।
তাহলে মাছ কেনার আগে শুধু শরীরের রং নয়, চোখের অবস্থাও দেখে নেওয়া জরুরি।
৩. গায়ের রং ও আঁশের উজ্জ্বলতা লক্ষ্য করুন।
দুই ধরনের ইলিশের গায়ের রংই রুপালি হলেও উজ্জ্বলতায় পার্থক্য রয়েছে।
পদ্মার ইলিশের আঁশ সাধারণত বেশ চকচকে রুপালি হয়ে থাকে। আলো পড়লে পিঠের দিকে হালকা সোনালি বা বেগুনি আভার ঝিলিক দেখা যায়। শরীরের মাঝ বরাবর একটি হালকা লালচে রেখাও স্পষ্ট থাকে।
অন্যদিকে গুজরাটের ইলিশের গায়ে রুপালি ভাব থাকলেও পিঠের অংশ তুলনামূলক কালচে বা ধূসর দেখায়। নদীর তাজা ইলিশের মতো রুপালি-সোনালি উজ্জ্বলতা এতে সবসময় দেখা যায় না।
৪. স্বাদ ও ঘ্রাণেও রয়েছে পার্থক্য
পদ্মার ইলিশের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর স্বাদ ও ঘ্রাণ। নদীর মিষ্টি পানিতে বেড়ে ওঠার কারণে এই মাছের শরীরে প্রাকৃতিক তেলের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে রান্নার পর মাছ নরম ও তুলতুলে হয়ে যায় এবং খাবারে আলাদা স্বাদ পাওয়া যায়।
রান্নার সময় পদ্মার ইলিশের বিশেষ ঘ্রাণও ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে সামুদ্রিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা গুজরাটের ইলিশ তুলনামূলকভাবে শক্ত হতে পারে। স্বাদও কিছুটা পানসে লাগতে পারে। রান্নার সময় পদ্মার ইলিশের মতো তীব্র ও পরিচিত ঘ্রাণও পাওয়া যায় না।
বাজারে ইলিশ কিনতে সতর্ক থাকুন
বাজারে ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় বিভিন্ন এলাকার মাছ একই নামে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়। দেখতে কাছাকাছি হওয়ায় শুধুমাত্র বিক্রেতার কথায় নির্ভর না করে মাছটি ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।
মাছ কেনার সময় শরীরের গঠন, চোখ, আঁশের উজ্জ্বলতা এবং গায়ের রং—এই চারটি বিষয় খেয়াল করলে পদ্মার ইলিশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সহজ হবে। রান্নার পর স্বাদ ও ঘ্রাণেও পার্থক্য বোঝা সম্ভব।
সুতরাং চড়া দাম দিয়ে ইলিশ কেনার আগে মাছটি আসলে কোন এলাকার, তা যতটা সম্ভব যাচাই করে নেওয়া উচিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন