প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
‘বিশ্ব ডিম দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ও দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ক্যাম্পাসের সাতটি স্কুলের শিক্ষার্থী, পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে সাড়ে তিন হাজার ডিম বিতরণ করা হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের সামনে থেকে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করেন অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।
এরপর সকাল ১০টায় অনুষদের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন চত্বর, প্রশাসনিক ভবন এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে অনুষদে এসে শেষ হয়। এরপর সেখানে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ডিম বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি পথচারী, যানবাহন চালক ও স্কুল, মাদ্রাসার শিশুদের মাঝেও ডিম বিতরণ করা হয়।
ডিম বিতরণ কর্মসূচির পর অনুষদের মেডিসিন গ্যালারিতে 'প্রোটিন দ্যাট পাওয়ারস অ্যান্ড প্রোটেক্টস' শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে ডিমের গুরুত্ব ও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর আলোকপাত করা হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক, ডিম দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক এবং সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ডিম দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব এবং মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মারজিয়া রহমান। এ সময় ভেটেরিনারি অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, "ডিমকে বলা হয় সুপারফুড। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ খাবার, যা ৭২ ক্যালরি শক্তি ও ৬ দশমিক ৩ গ্রাম প্রোটিন আছে। এছাড়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন, সেলেনিয়াম আছে। ডিমে রয়েছে সর্বোচ্চ বায়োলজিক্যার স্কোর (৯৪) এবং প্রয়োজনীয় নয়টি অ্যামাইনো এসিডের সব ডিমে আছে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক ১ থেকে ২ টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন। বয়স্কদের সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন।"
তিনি আরও বলেন, "মস্তিষ্ক ও মাংসপেশির বিকাশ, দৈহিক শক্তি ও এনজামের কার্যকারীতা বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধে ডিম অপরিহার্য। ডিমে ভিটামিন ডি ও ভিটামিন কে থাকায় হাড় ও দাঁতের সুস্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী। ডিমে উপস্থিত কোরিন ২৪ শতাংশ স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। সপ্তাহে চারটি ডিম খেলে ৩৮ শতাংশ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। এছাড়া হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় ডিম।"
গত দশ বছরে দেশে ডিমের উৎপাদন ২ দশমিক ৩ গুণ বেড়েছে। ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান নবম।
এ সময় অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, "বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি বছর ২৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডিম উৎপাদন হয়। তবে আমাদের বার্ষিক চাহিদা ১৮ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন। সুতরাং আমরা ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ন এবং উদ্বৃত্ত ডিম রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।"
তবে ডিম উৎপাদনের ক্ষেত্রে মুরগি ফিডের উচ্চমূল্য ও নানাবিধ রোগের মতো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বর্তমানে ভ্যাকসিন খরচ, খামার ব্যবস্থাপনা ও ফিডের খরচ মিলে একটি ডিম উৎপাদন করতে ১০ থেকে ১১ টাকা খরচ হয়। এমতাবস্থায় কৃষির মতো পোল্ট্রি খাতে সরকারি ভর্তুকির দাবি জানাচ্ছি। এর ফলে একই সাথে খামারির স্বার্থ রক্ষা হবে এবং গ্রাহকের কাছে স্বল্পমূল্যে ডিম পৌঁছে যাবে।
তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে বাংলাদেশে প্রাণী চিকিৎসার জন্য প্রতি উপজেলায় একজন ভেটেরিনারিয়ান আছেন। তবে একজনের জন্য ৫০ থেকে ৬০ হাজার পশুর চিকিৎসা প্রদান করা কষ্টসাধ্য। এজন্য প্রতি উপজেলায় অন্তত ৫ থেকে ৬ জন ভেটেরিনারিয়ানের পোস্ট দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন