প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে, তবে নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের অভাব দেখা দিয়েছে। সরবরাহের অভাবে চাঁদপুরের বিভিন্ন মাছের আড়ত ও বাজারে জাতীয় মাছটির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। একই অর্থের বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় আড়াই থেকে তিন মণ আলু। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের অনেক পরিবারে ইলিশ ক্রয় করা এখন সম্ভব হয়ে উঠছে না।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, ইলিশের দাম অত্যন্ত চড়া। বড় আকারের ইলিশের সরবরাহ কম থাকার কারণে দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের ইলিশের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
চাঁদপুর সদর, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, হাইমচর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার মাছের বাজারেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যান্য মাছের তুলনায় ইলিশের দাম অনেক বেশি।
কিছু মৎস্য ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, নদী থেকে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়াই দাম বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ। আড়তে মাছের পরিমাণ কম হলেও ক্রেতাদের চাহিদা রয়েছে। ফলে সরবরাহ কম এবং চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে ইলিশের দাম বেড়ে গেছে।
নদীতেও ইলিশের সংকটের চিত্র দেখা যাচ্ছে। জেলেরা জানিয়েছেন, আগের মতো জালে ইলিশ ধরা পড়ছে না। অনেক সময় নদীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করেও আশানুরূপ মাছ ধরা পড়ছে না।
মাছ ধরতে নৌকার জ্বালানি, শ্রমিক, বরফ ও খাবারের জন্য প্রতিদিন খরচ হচ্ছে। এতে অনেক জেলে লোকসানে পড়ছেন এবং কেউ কেউ পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন।
এক জেলে বলেন, "নদীতে মাছ না থাকলে আমাদের কষ্টটা কেউ বোঝে না। জাল ফেলতে যে খরচ হয়, অনেক সময় সেই টাকাটাও ওঠে না। মাছ পেলে সংসার চলে, না পেলে ধারদেনা করতে হয়। কিস্তি আর মহাজনের ঋণের টাকা ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারছি না। ছেলে-সন্তানদের নিয়ে খুব অভাবে আছি।"
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে ইলিশের দাম এত বেড়ে গেছে যে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের পক্ষে এখন ইলিশ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এক ক্রেতা বলেন, "এক কেজি ইলিশের দাম যদি আড়াই হাজার টাকার ওপরে হয়, তাহলে পরিবারে ইলিশ খাওয়ানো কঠিন। একই টাকায় অনেক কেজি আলু বা অন্য মাছ কেনা যায়।"
মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদীতে ইলিশের সরবরাহ বাড়লে বাজারে দাম কমতে পারে। তবে কবে নাগাদ ইলিশের সরবরাহ বাড়বে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না তারা।
মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, "ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে আমরা সব সময় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে থাকি। জাটকা সংরক্ষণ, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বন্ধ এবং অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নদীতে ইলিশের বিচরণ ও সরবরাহ বাড়লে বাজারে দামও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন