প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানী উত্তরা এলাকায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়েছে। মামলার ২৬ জন আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর জন্য আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন, তারা তাদের শুনানি শেষ করেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হলো। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আংশিক শুনানির পর ট্রাইব্যুনাল আগামী ২৩ জুলাই অবশিষ্ট শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।
এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি শুনানিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা দুটি নির্দিষ্ট অভিযোগ পড়েন এবং ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, এটি একটি পরিকল্পিত, ব্যাপক এবং পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ। একই সাথে তিনি দাবি করেন যে আসামিদের কার কী ভূমিকা ছিল তা ব্যাখ্যা করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আবেদন জানান। শুনানিকালে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন এবং এম হাসান ইমাম তাদের মক্কেলদের অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আবেদন জানান। আইনজীবীরা দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাদের মক্কেলদের আসামি করা হয়েছে এবং জানান, এই মামলায় তাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো দায় নেই।
মামলার মোট ২৬ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে আটজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন: ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ নেতা মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. শাহ আলম এবং আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী।
অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান ও সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১৮ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের প্রথম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে পুলিশ ও সহযোগীরা নির্বিচারে গুলি চালায়। এই ঘটনায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজন নিহত হন। এই সময় উবারচালক মোখলেছুর রহমানকে পুলিশের সাঁজোয়া যানের (এপিসি) চাকায় পিষ্ট করে হত্যা করার ঘটনার অভিযোগে বলা হয় যে, লাশ গুমের উদ্দেশ্যে তুরাগ নদে ফেলে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, পরদিন ১৯ জুলাই একই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর একইভাবে গুলি চালিয়ে রিদোয়ান শরীফ রিয়াদসহ চারজনকে হত্যা করা হয়। এই দুটি ঘটনাতেই বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন