প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
উৎপাদন বন্ধ এবং দীর্ঘদিন অচল হয়ে থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে এ বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
আরও বলেছেন, বিশ্বের কোথাও বন্ধ কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের সুযোগ নেই। কাজেই বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং বিনিয়োগবান্ধব করতে আইপিও প্রক্রিয়াকে সহজ করার পাশাপাশি, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ সম্প্রসারণ করা, মার্জিন ঋণের নীতিমালায় পরিবর্তন আনা, টি+১ সেটেলমেন্ট বাস্তবায়ন, বন্ড বাজারকে মূল মার্কেটে আনা, এবং ডেরিভেটিভস চালুর মতো নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
মাসুদ খান আরও জানাচ্ছেন, পুঁজিবাজারের ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাজার তদারকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) আরও বেশি ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। পূর্বে যে কোনো শেয়ার এর অস্বাভাবিক দর বা লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে ডিএসইকে কমিশনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হতো, কিন্তু এখন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য ডিএসইকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণের ক্ষমতাও স্টক এক্সচেঞ্জকে দেয়া হয়েছে।
দেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে হলে মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে শক্তিশালী করা আবশ্যক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জানান, অধিকাংশ খুচরা বিনিয়োগকারীর জন্য ভালো কোম্পানি বাছাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বিদেশের আদলে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার সনদ চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও, মিউচুয়াল ফান্ড, মার্জিন ঋণ ও পাবলিক ইস্যু বিধিমালায় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, বর্তমান আইপিওতে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং বিপুল কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এই কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকঋণকে সহজ বিকল্প হিসেবে নির্বাচন করে। সেই কারণেই আইপিও প্রক্রিয়াকে সহজ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বড় বেসরকারি কোম্পানিগুলোকেও ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ দেয়া হবে। বর্তমানে শুধুমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ২৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে এই সুবিধা পায়। নতুন ব্যবস্থায় সব ধরনের কোম্পানি ১০ শতাংশ শেয়ার অফলোড করলেই ডাইরেক্ট লিস্টিং করতে পারবে।
মার্জিন ঋণ নীতিমালার বিষয়ে মাসুদ খান বলেন, বর্তমান নীতিমালায় এত বেশি শর্ত রয়েছে যে বিনিয়োগকারীদের জন্য ঋণ গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আগামী সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত নতুন বিধিমালার খসড়া প্রকাশিত হবে। গেজেট প্রকাশের পর মার্জিন ঋণ পাওয়া আরো সহজ হবে। দায়িত্ব নেওয়ার পর সমালোচনা সত্ত্বেও ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিপ্টস (জিডিআর) সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমানোর বিষয়েও উদ্যোগের কথা জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে শেয়ার লেনদেনের নিষ্পত্তি দুই দিনে সম্পন্ন হয়। এটি কমিয়ে টি+১, অর্থাৎ একদিনে আনার উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।
পুঁজিবাজারে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনগত কাঠামোতেও পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা জানান মাসুদ খান। তিনি বলেন, বর্তমানে বিএসইসি জরিমানা করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা আদালতে আটকে যায়। অতীতের একটি কমিশন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করতে এবং পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হচ্ছে।
এখন বন্ড বাজারকে সক্রিয় করার জন্য ক্যাপিটাল মার্কেটে তালিকাভুক্ত অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে থাকা বন্ডগুলোকে মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন তিনি। সেই সঙ্গে ডেরিভেটিভস চালুর প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন