প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশে নারী স্বাস্থ্য ও কল্যাণে বৃহৎ ধরনের পরিবর্তন আনতে ডিজিটাল স্বাস্থ্য অ্যাপ চালুর বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
তিনি জানান, মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে তরুণ চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক উচ্চতর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
ডা. মুহিত বলেছেন, ‘নারী স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে আমাদের দল সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য আমাদের যে ম্যান্ডেট রয়েছে, আমরা তাদের দোরগোড়ায় সেই স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেব।’
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘হার হেলথ বাংলাদেশ: নারীদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ ত্বরান্বিতকরণ—জাতীয় মাতৃস্বাস্থ্য এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক-এর যৌথ অর্থায়নে এবং ইউএনএফপিএ-এর সহযোগিতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়া হায়দারও বক্তব্য রাখেন।
প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত তার বক্তব্যে কর্মসূচির রূপান্তর ও প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘প্রজেক্টের ‘ডিজিটাল হেলথ অ্যান্ড ইনোভেশন’ স্তম্ভটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এই কর্মসূচির আওতায় একটি দ্বি-মুখী ডিজিটাল অ্যাপ তৈরি করা অত্যাবশ্যক, যার একটি ইন্টারফেস রোগীরা ব্যবহার করবেন এবং অন্যটি ব্যবহার করবেন সেবাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সহজে সংগ্রহ করা যাবে এবং রোগীরাও অ্যাপের মাধ্যমে তাদের পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলো-আপ রিমাইন্ডার ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক শিক্ষা লাইভ ও সরাসরি লাভ করতে পারবেন।’
চিকিৎসক ও মাঠকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের বিশাল মাঠ পর্যায়ের কর্মীবাহিনীকে স্তন ক্যান্সার ও ফিস্টুলা স্ক্রিনিংয়ের সঠিক প্রশিক্ষণ প্রদান জরুরি। এর সাথে সাথে তরুণ সার্জনদের জন্য সার্জিক্যাল ট্রেনিং এবং ডাক্তারদের জন্য ক্যান্সার থেরাপির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের বিষয়টি এই প্রজেক্টে থাকা উচিত।’
তিনি ইউরোপীয় বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সাথে কোলাবোরেশনের মাধ্যমে দেশের তরুণ চিকিৎসকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ফেলোশিপের সুযোগ তৈরি করতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন।
সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়া হায়দার তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা ঢেলে সাজানোর একটি যুগান্তকারী রূপরেখা তুলে ধরেন।
ডা. জিয়া বলেন, “মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমাদের বর্তমানে তিন ধরনের ফ্রন্টলাইন কর্মী রয়েছেন। আমরা তাদের সবাইকে একত্রিত করে 'কমিউনিটি হেলথ ওয়াকার' নামে একটি একক ও সমন্বিত বাহিনী গড়ে তুলছি। নতুন এক লাখসহ, দেশের মোট এক লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার দেশের প্রতিটি পরিবার পরিদর্শন করবেন এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবেন।”
সেমিনারে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) শাহ ইমাম আলী রেজা, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন ক্যামকং এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীমসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন