প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগের কারণে আইনি চাপে রয়েছে মেটা। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) শুরু হতে যাচ্ছে ৩০টি অঙ্গরাজ্যের করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার জুরি ট্রায়াল। যদি মেটা হেরে যায় তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকের বেশ কিছু জনপ্রিয় ফিচার ও অ্যালগরিদমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। এ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি শিশু-কিশোরদের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের আইন ভেঙেছে। অঙ্গরাজ্যগুলো মেটার কাছে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
এই মামলায় শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের কিছু মৌলিক ফিচার পরিবর্তনের দাবিও উঠেছে। দাবির মধ্যে রয়েছে, লাইক সংখ্যা প্রদর্শন বন্ধ করা, ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ ব্যবস্থা সীমিত বা বন্ধ করা, এবং কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য অভিভাবক যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করা।
এছাড়া অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে সহায়ক অ্যালগরিদমের পরিবর্তন, কিছু পরিবর্তনকারী ইমেজ ফিল্টার সরানো, ভিডিওর অটোপ্লে বন্ধ করার দাবি, একজন ব্যবহারকারীর একাধিক অ্যাকাউন্ট তৈরির সুযোগ সীমিত করা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়া পোস্টের সুবিধা বন্ধ করার বিষয়গুলোও যুক্ত হয়েছে।
মামলায় অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, এসব ফিচার এইভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে শিশু-কিশোরসহ ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করেন এবং বারবার ফিরে আসেন। এ ছাড়া ঘন ঘন নোটিফিকেশন পাঠিয়ে ব্যবহারকারীদের অ্যাপে ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মেটা অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা অভিযোগগুলোর সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করেন। তরুণদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে মেটার দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণেও সেটি উঠে আসবে বলে তাদের আত্মবিশ্বাস রয়েছে।
মামলাটির শুনানি ক্যালিফোর্নিয়ার প্রধান ফেডারেল বিচারক ইভন গনজালেজ রজার্সের আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যানের মধ্যকার বহুল আলোচিত মামলাটিও তার আদালতে হয়েছে।
এদিকে নিউ মেক্সিকোতে মেটার বিরুদ্ধে এক পৃথক মামলায় ইতোমধ্যে বড় রায় এসেছে। সেখানে বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড মেটাকে ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার জরিমানা এবং প্ল্যাটফর্মে বেশ কিছু পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য লাইক সংখ্যা প্রদর্শন বন্ধ করা, কিশোরদের মাধ্যমে নগ্ন ছবি পাঠানো বা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা, এবং নির্দিষ্ট সময়ে পুশ নোটিফিকেশন সীমিত করার নির্দেশ।
মেটা ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০টি অঙ্গরাজ্যের মামলার গুরুত্ব বিশেষভাবে বাড়ছে। কারণ সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর মোট জনসংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। তাই মেটার বিরুদ্ধে রায় গেলে নিউ মেক্সিকোর মতো শুধু একটি অঙ্গরাজ্যে নয়, গোটা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
মামলায় মেটার অভ্যন্তরীণ গবেষণার তথ্যও উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণায় দেখা যায়, লাইক সংখ্যা ব্যবহারকারীদের মধ্যে সামাজিক তুলনার প্রবণতা বাড়াতে পারে। অন্যের ছবি বা জীবনযাপনের সঙ্গে নিজের অবস্থান তুলনা করার এই প্রবণতার একাকিত্ব, নিজের শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা এবং নেতিবাচক আবেগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে।
মেটা জানিয়েছে, তারা এর মধ্যে ২০ লাখেরও বেশি নথি আদালতে জমা দিয়েছে।
যদি মামলায় মেটা হেরে যায় তবে বিপুল অঙ্কের আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকের দীর্ঘদিনের পরিচিত ফিচার ও নোটিফিকেশন ব্যবস্থা এবং সুপারিশ অ্যালগরিদমেও পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভিজ্ঞতাই বদলে যেতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন