প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সেতু রয়েছে, কিন্তু সেতুতে ওঠার জন্য কোনো রাস্তা নেই! কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বালাটারী গ্রামে মরা তিস্তা খালের ওপর ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুর চিত্র এমনই।
কিছু বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু, দুপাশে সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে স্থানীয়রা সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না। সরকারি অর্থে নির্মিত এই সেতুটি বর্তমানে অনেকটা অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
ফলস্বরূপ, সেতু দিয়ে খাল পার হওয়ার সুযোগ থাকলেও সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে চাকিরপশার ও নাজিমখান ইউনিয়নের অন্তত আটটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে বিকল্প পথে প্রায় ৩ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে তাদের সময় ও ভোগান্তি দুটিই বাড়ছে।
রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বালাটারী গ্রামে মরা তিস্তা খালের ওপর ৩০ মিটার সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৭৮ লাখ টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের জন্য কুড়িগ্রামের মেসার্স শীতল কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মোকছেদুল হকের সঙ্গে চুক্তি হয়।
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথমে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এর মধ্যে মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটি নির্মাণের আগে মরা তিস্তা খাল পারাপারে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ছিল। সেতু নির্মাণের পর সেই দুর্ভোগ দূর হওয়ার আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু, সংযোগ সড়ক না থাকায় তাদের সেই আশা হতাশায় পরিণত হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজের সময় কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও সে সময় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে দেখা হবে।
কাজটির মূল ঠিকাদার মোকছেদুল হক বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানান, খুব দ্রুতই সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। সাব-ঠিকাদার রাকিবুজ্জামান রাকিব বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারকে এখনো সম্পূর্ণ বিল দেওয়া হয়নি। চলতি মাসে সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ না হলে চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কাজের মান নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—যে সেতু মানুষের চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে, সংযোগ সড়ক ছাড়া সেই সেতু কবে মানুষের কাজে আসবে? তারা দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি ব্যবহার উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন