প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সাতক্ষীরায় চিংড়ি চাষিদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে রেনুর গুণগত মান ও ভাইরাস পরীক্ষার জন্য ল্যাব নির্মাণ করা হয়েছিল, কিন্তু জনবল অভাবের কারণে তা এখনও চালু হয়নি। ফলে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার চিংড়ি মারা যাচ্ছে। চাষিরা দাবি করছেন, দ্রুত টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিয়ে বহুল প্রত্যাশিত এই ল্যাবটি চালু করা হোক। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে রেনু পরীক্ষার ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, অনেক চাষি চিংড়ি চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। দক্ষ জনবলের অভাবে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও ওষুধও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সাতক্ষীরায় জনবলের অভাবে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চিংড়ি রেনুর গুণগত মান ও ভাইরাস পরীক্ষার দুটি ল্যাব অকার্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে জেলার এল্লারচর এলাকায় চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারে এই দুটি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এখন পর্যন্ত সেগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
বাগদা চিংড়ি, যা সাদা সোনা হিসেবে পরিচিত, সাতক্ষীরার প্রধান অর্থকরী ফসল। জেলায় প্রায় ৫৫ হাজার ঘেরে বাগদা চাষ হয়। চাষিরা রেনুর গুণগত মান পরীক্ষা না করার ফলে কেবল চোখে দেখে বাজার থেকে রেনু কিনে ঘেরে ছাড়ছেন। প্রতিবছর এসব ঘেরে ৩০০ কোটিরও বেশি চিংড়ি রেনু ছাড়া হচ্ছে।
তবে রেনুর গুণগত মান ও ভাইরাস পরীক্ষা না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে চিংড়ি কিছুটা বড় হওয়ার পর মারা যাচ্ছে। এতে প্রতি বছর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে ঘের মালিকের এবং চাষিদের। তাই তাদের দাবি, দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে রেনুর গুণগত মান ও ভাইরাস পরীক্ষার দুটি ল্যাব চালু করা হোক।
ব্যবসায়ীদের মতে, রেনু পরীক্ষার সুযোগ না থাকার কারণে অনেক চাষি চিংড়ি চাষে আগ্রহ হারিয়ে সাদা মাছ ও ধান চাষের দিকে সরে যাচ্ছেন। পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করতে না পারার কারণে চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা বলেছেন, রফতানিযোগ্য চিংড়ি উৎপাদনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে রেনুর গুণগত মান ও ভাইরাস পরীক্ষার ল্যাব দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সম্পদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম জানান, সাতক্ষীরায় লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চিংড়ি চাষের সঙ্গে জড়িত। গত বছরের ডিসেম্বরে পিসিআর ল্যাবটি জেলা মৎস্য দফতরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু এখনও দক্ষ জনবল পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জেলা মৎস্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরায় প্রায় ৬৮ হাজার হেক্টর জমির প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ঘেরে চিংড়ি চাষ করা হচ্ছে। এবছর জেলায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন