প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ঢাকায় অফিস স্থাপনের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের ই-কমার্স এবং অনলাইন ব্যবসার সম্প্রসারণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও দেখিয়েছে। মেটা ঢাকায় একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র বা ফোকাল পয়েন্ট স্থাপনের বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শামা ওবায়েদ জানান, মেটার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ঢাকায় অফিস খোলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অন্য একটি জরুরি কর্মসূচির কারণে তিনি অংশ নিতে পারেননি।
মেটার ঢাকায় অফিস খোলার আগ্রহের পেছনে বাংলাদেশের বড় ফেসবুক ব্যবহারকারী ভিত্তি উল্লেখ করা হয়েছে। শামা ওবায়েদ বলেন, "বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর উপস্থিতি বড় হওয়ায় ঢাকায় একটি ফোকাল পয়েন্ট স্থাপনে মেটা বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে।"
বৈঠকে বাংলাদেশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের ই-কমার্স এবং অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করারও ইচ্ছা রয়েছে মেটার। (Dhaka Stream)
ডিজিটাল হয়রানির বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। শামা ওবায়েদ জানান, বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় ডিজিটাল হয়রানি কমাতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কীভাবে কাজ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মেটা এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের প্রথম বাজেটে ই-কমার্স ও প্রযুক্তি খাতকে দেওয়া গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট টিমের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রতিষ্ঠানটি আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ঢাকায় মেটার অফিস কবে এবং কীভাবে চালু হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, ওই বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রতিরক্ষা বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। মক্কা প্যাক্ট নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও তিনি জানান।
হুমায়ুন কবির বলেন, বৈঠকটি আন্তরিক ছিল এবং এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে পারস্পরিক অংশীদারত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এলডিসি উত্তরণ নিয়ে তিনি আলোচনা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। তবে কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি, গত ১৫ বছরের গণতান্ত্রিক ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা এবং বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের বিষয়গুলো বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ সংক্রান্ত আবেদনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সমর্থন পাচ্ছে এবং সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে। জ্বালানি সংকটের বিষয়টিও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
মেটার সঙ্গে বৈঠকটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অংশগ্রহণের কথা থাকলেও সময়সূচির কারণে তিনি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল মেটার সঙ্গে আলোচনা করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন