প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
শারদীয় দুর্গাপূজার টানা ছুটির সময়ে রাজধানী ঢাকা ভিন্ন চেহারা ধারণ করেছে। সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা এবং যানজট মুক্ত অবস্থায় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে, শহরের ব্যস্ততা, যানজট এবং হর্নের বিকট শব্দের অভাব রয়েছে। বরং, পরিবেশটি কোলাহলমুক্ত, শান্ত এবং প্রায় নির্জন হয়ে আছে। তবে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। সকাল থেকেই সেখানে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিবছর প্রধান ধর্মীয় উৎসব বা ছুটির দিনগুলোতে হাজার হাজার মানুষ ঢাকাকে বিদায় দিয়ে গ্রামে বা দর্শনীয় স্থানে চলে যান।
এ বছর দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটির সুযোগে নগরবাসীর একটি অংশ রাজধানী ছেড়ে গ্রামে বা দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে গেছেন। এর ফলে চিরচেনা ব্যস্ত ঢাকা এক ভিন্ন রূপে ফিরে এসেছে।
সাধারণ দিনে মতিঝিল, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মিরপুরের যে রাস্তাগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়, সেসব সড়ক বর্তমানে সম্পূর্ণ ফাঁকা।
গণপরিবহণ ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমে গেছে। কিছু সিএনজি চলাচল করলেও সেগুলোতে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তবে ফাঁকা সড়কে অটো রিক্সাগুলো সুযোগ নিয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
মতিঝিল থেকে মিরপুর বা উত্তরা যেতে যেখানে সাধারণ সময়ে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লেগে যায়, সেখানে বর্তমানে মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিনিটেই ওই দূরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব হচ্ছে।
আব্দুল্লাহপুর থেকে মিরপুর শেওড়াপাড়ায় ৩৫ মিনিটে এসে পৌঁছেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শেখ কামাল হোসেন। তিনি বলেন, "কর্ম দিবসে ১ থেকে দেড় ঘণ্টার কমে আসার সুযোগ থাকে না, সেখানে মাত্র ৩৫ মিনিটে এসে পৌঁছালাম।" পূজার ছুটির কারণে সড়কে চলাচলে স্বস্তি মিলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, পূজার ছুটিতে সকালের দিকে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতেও যাত্রীদের তেমন চাপ লক্ষ্য করা যায়নি। তবে দুপুরের পর আগারগাঁও ও বিজয় সরণি স্টেশনে বিনোদন প্রেমী দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। ছুটির দিনে পরিবার পরিজন নিয়ে বিমান বাহিনী জাদুঘর, ভাসানী নভোথিয়েটার এবং জিয়া উদ্যানে ঘুরতে এসেছেন হাজারো দর্শনার্থী। শুধু তাই নয়, সকাল থেকে জাতীয় চিড়িয়াখানায়ও ভিড় ছিল লক্ষণীয়।
ঢাকা ফাঁকা হওয়ার ফলে কর্মজীবী মানুষ ও পথচারীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। সড়কগুলো নির্জন হলেও রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো উৎসবের আনন্দ এবং দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে। টানা ছুটিতে বিনোদন কেন্দ্রগুলো পরিবার পরিবারের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।
ছুটির দিন শেষ হলেই আবারও তিলোত্তমা ঢাকা ফিরে পাবে তার ব্যস্ত ও কোলাহলপূর্ণ আসল রূপ। তবুও প্রতিবছর এ ধরনের ছুটিগুলো ঢাকাবাসীকে কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ দেয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন