প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের যে সংকট চলছে, তা বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, এই সংকট আগের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চলমান সংকট তৈরি করেনি; বরং এটি পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে পাওয়া। তবে, সরকার পরিস্থিতির উন্নতিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সম্পদ ব্যবহার করছে।
অর্থমন্ত্রী একইসঙ্গে বলেছেন, এ সংকট কাটাতে কিছুটা সময় লাগবে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে মজুতের অবস্থা খুবই নাজুক ছিল। কিছু ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মজুতও ছিল না। বর্তমানে তা এক মাসে উন্নীত করা হয়েছে। আগামীতে, পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি খাতে তিন মাসের মজুত গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে। এ কারণেই অর্থনীতির উন্নয়নে জ্বালানি নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে কিছু সময় লাগবে। সরকার কঠোর পরিশ্রম করছে এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে। তবে, সবকিছু সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই শিল্প খাতকে এই বাস্তবতা বুঝতে হবে। ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা উল্লেখ করেছেন আমির খসরু। তিনি বলেন, এর প্রভাব খেলাপি ঋণের ওপরও পড়ছে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল ও গ্রেস পিরিয়ডসহ একটি প্যাকেজ দিচ্ছে। ব্যবসা থেকে বের হয়ে যেতে চান এমনদের জন্যও নীতিগত সুযোগ রাখা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতে মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, কোনো ঋণ ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে থাকলেও যদি তা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে কাগজে ঋণ দেখানো কোনো অর্থ রাখে না। তাই ব্যাংকের ব্যালান্সশিট পরিষ্কার করে প্রকৃত তারল্য তৈরি করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্যাকেজ আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। যোগ্য হওয়ার পরও যদি কোনো ব্যাংকে বাধা সৃষ্টি হয়, তাহলে সরকারের কাছে বিষয়টি জানানো দরকার।
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে, অতীতে এ ধরনের অর্থায়নে অনিয়ম ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ছিল। এবার তিনি বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ রাখা হবে না। আর্থিক খাতে রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হবে না। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করা ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে হবে। আর্থিক খাতকে বাজারের নিয়মে পরিচালনা করতে হবে এবং সরকার রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন