প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতির পর, আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) শুরু হয়েছে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান। ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুসারে, আজ থেকে ইরান ও ইরাকের অন্তত পাঁচটি শহরে সাত দিনব্যাপী শোকানুষ্ঠান ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, খামেনির লাশ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠেয় মূল জানাজায় অপেক্ষাকৃত কয়েক কোটি মানুষের পাশাপাশি উপস্থিত হওয়ার আশা করা হচ্ছে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের।
ইরানের রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিন রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শোকপালনকারীরা কালো পোশাক পরিধান করে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। লাল ফুল ও সাদা প্রজাপতির প্রতীকী সাজসজ্জার মাধ্যমে কফিনটিকে রাখা হয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের স্থানে।
খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হন। ইসলামী রীতিতে সাধারণত মৃত্যুর পর যত দ্রুত সম্ভব দাফন সম্পন্ন করার প্রথা রয়েছে। সে তুলনায় চার মাস পরে দাফনের সিদ্ধান্তটি অস্বাভাবিক বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খামেনির মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছিল। এই পরিস্থিতিতে বড় পরিসরে জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি এবং অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়।
খামেনির লাশ অস্থায়ীভাবে দাফন করা হয়েছিল এমন গুঞ্জন থাকলেও ইরানি কর্তৃপক্ষ এটি অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছেন, পুরো সময় লাশ ইসলামি শরিয়াহ এবং দেশের আইন অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর বলেছেন, ইসলামে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে মরদেহ সংরক্ষণ (এম্বামিং) নিরুৎসাহিত করা হয়। তাই খামেনির মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণ না করে অত্যন্ত কম তাপমাত্রার শীতল সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে শিয়া ইসলামি আইনে দাফনে বিলম্ব এবং শীতল পরিবেশে মরদেহ সংরক্ষণ করার অনুমতি রয়েছে। একজন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার জন্য এই ধরনের ধর্মীয় ছাড় পাওয়াও অস্বাভাবিক নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ইরানের ফরেনসিক মর্গগুলোতে বিভিন্ন কারণে অনেক সময় মরদেহ দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করা হয়। এই কারণে, চার মাস ধরে শীতল সংরক্ষণাগারে মরদেহ রাখা দেশটির ধর্মীয় এবং আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।
তবে খামেনির মরদেহ কোন ধরনের সংরক্ষণ পদ্ধতিতে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে ইরানি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন