প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
অবৈধভাবে বিদেশ যাত্রা এবং প্রতারণা বন্ধে এবার দেশের সব রিক্রুটিং এজেন্সিকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর উদ্দেশ্য হলো বিএমইটির ওয়েবসাইটে তথ্য দেখে বিদেশগামীদের ভালো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুবিধা তৈরি করা। সময় সংবাদকে এই তথ্য জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তবে, বায়রার নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে সরকারের এই উদ্যোগ নতুন উদ্যোক্তাদের সুযোগ সীমাবদ্ধ করবে এবং শ্রমবাজারটি কিছু গুটিকয়েকের হাতে চলে যেতে পারে। এই অবস্থায় অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন যে অনিয়মে যুক্তদের যথাযথ শাস্তি প্রদান না করা গেলে কোন পদক্ষেপের ফল পাওয়া যাবে না।
বিদেশে যেতে ২০২৩ সালে একজন রিক্রুটিং এজেন্সিতে টাকা জমা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ নাদিম। তারপরেও নানা ভোগান্তির শিকার হলেও তার হাতে ভিসা এবং বিএমইটির ছাড়পত্র আসেনি। তার মতো আরও অনেকেই আছেন যারা পরিবারকে স্বচ্ছল করার আশা নিয়ে নিজেকে উজাড় করেছেন, কিন্তু তারা এজেন্সির গাফিলতি এবং প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। অনেকের জীবন বিপন্ন হয়েছে ভূমধ্যসাগরে অথবা মরুভূমিতে গমন করার সময়।
এমন পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর জন্য সরকার এবার অসাধু এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি আরও বলেছেন, "মানুষ বিদেশ যাওয়ার জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, সেক্ষেত্রে আমাদের সালিশি ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। যদি আমরা লাইসেন্সগুলোর গ্রেডিং করতে পারি, তাহলে এই খাতে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব।"
প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ২,৮৩৬টি। এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের অতীত কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে, যাতে বিদেশগামীরা বিএমইটির ওয়েবসাইটে দেখে ভালো এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আরও জানায়, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যারা দেশের মানুষের জন্য সৎভাবে কাজ করছে, তাদের একটি গ্রেডিংয়ের মধ্যে এনে শৃঙ্খলা স্থাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে, সরকারের এই উদ্যোগ প্রাণবন্ত নতুন ব্যবসায়ীদের সুযোগ সীমিত করবে তা বলছেন উদ্যোক্তারা, যার ফলে শ্রমবাজারের একটি বড় অংশ কিছু গুটিকয়েক এজেন্সির দখলে চলে যেতে পারে।
বায়রার সাবেক সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা বলছেন, "আজ যে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে আছে, তার ভালো কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের যদি গ্রেডিং করতে হয়, তবে ব্যাপকভাবে এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।"
বায়রা সাবেক আরেক মহাসচিব মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, "যদি এটিকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে এটি যে অনিয়ম করবে না এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য কেউ দায়ী নয়। আবার ‘সি’ ক্যাটাগরিতে থাকা কেউ ভালো কাজ করবে না এমনও নয়। নতুন আসা উদ্যোক্তাদেরও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।"
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এজেন্সির ক্যাটাগরি করার পাশাপাশি অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে কোন উদ্যোগই কার্যকর হবে না।
র্যাপিডের চেয়রম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, "এজেন্সি কার্যক্রম চলতে থাকবে এবং শ্রমিকরা কতখানি লাভবান হবে, তা সবকিছুই সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।"
প্রবাসে শ্রমিক পাঠাতে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট করার অভিযোগ এনে ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কয়েক দফায় বন্ধ হয়ে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন