প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আগামী মাসের মধ্যে সরকারের উদ্যোগে ‘প্রবাসী কার্ড’-এর পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে প্রবাসী ডেবিট কার্ড চালুর বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৮ জলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কার্ড সম্পর্কিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এই তথ্য জানান।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রবাসী কার্ড নিয়ে একটি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কার্ডটি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান করবে। সরকার এর মাধ্যমে প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা, ক্ষমতায়ন, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করতে চায় এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট এবং ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছাতে চায়।
নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে সরকার। প্রবাসী কার্ডও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।
উপ-প্রেস সচিব জানালেন, প্রবাসী কার্ডের ফলে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা প্রাপ্ত হবেন। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে— দেশে এবং বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার, বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা গ্রহণ, আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে কমপ্লিমেন্টারি মিট অ্যান্ড গ্রিট সেবা, বিমানের টিকেট এবং হোটেল বুকিংয়ে ডিসকাউন্ট, দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূলে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডে এয়ারপোর্ট পিক এবং ড্রপ সেবা।
সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ এবং বেসরকারিতে ডিসকাউন্ট সুবিধা, কার্ডধারীর মৃত্যুতে বিনা খরচে লাশ পরিবহন, প্রবাস ফেরতদের পুনর্বাসন এবং বীমা সুবিধা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি, লাইসেন্স এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকারের ব্যবস্থা থাকবে।
এছাড়া, সরকার রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং এবং ঋণ সুবিধা, কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ পাঠানোসহ লেনদেন সহজ করবে। এনআইডি, পাসপোর্ট এবং কনস্যুলার সেবায় অগ্রাধিকার, ব্যাংক ও সরকারের অন্যান্য সুবিধাসমূহও প্রদান করা হবে।
শাহাদাৎ স্বাধীন জানালেন, প্রবাসী কার্ড পরীক্ষামূলকভাবে আগামী মাসের মাঝামাঝিতে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বৈঠকে নির্ধারণ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ডের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
উপ-প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে সময়োপযোগী এবং আধুনিক করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বে যারা বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন, তারা যেন প্রবাসী কার্ডের আওতায় আসেন, সেটিও নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে শাহাদাৎ স্বাধীন জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন