প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশি পলু পোকার সুতার আকালকে পুঁজি করে সিল্কের বাজারে এখন চিনা সিনথেটিক সুতা প্রবাহিত হচ্ছে। সিল্ক পোশাকের নামে এসব চিনা সুতার তৈরি পোশাক কিনে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। ব্যবসায়ীদের দাবি, রেশম শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েই সুতা আমদানি করতে হচ্ছে।
প্রায় দুই যুগ আগে রাজশাহী নগরীর সপুরার অর্ধশত সিল্কের কারখানা ছিল কর্মব্যস্ত। তবে কালের বিবর্তনে বর্তমানে মাত্র আটটি কারখানায় তৈরি হচ্ছে সিল্কের পোশাক, আর বিক্রি হচ্ছে মাত্র ছয়টি শোরুমে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে দেশে মাত্র ২০ শতাংশ রেশমি সুতা উৎপাদিত হয়, বাকি ৮০ শতাংশ সুতা আসে চীন থেকে।
এক মাস তুঁত পাতা খাওয়ার পর পলু পোকার লালা থেকে তৈরি হয় প্রাকৃতিক রেশম সুতা। চিনা সিনথেটিক সুতার তুলনায় এর গুণগত মান সম্পূর্ণ আলাদা। কারখানাগুলোর কাজ করা কারিগরদের ভাষ্য হলো, দেশে উৎপাদিত সিল্কের সুতা হলুদ রঙের হয়ে থাকে, কিন্তু চীন থেকে আনা সুতার রং সাদা। উৎপাদন কম হওয়ায় দেশে প্রতি কেজি সুতা ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার পরেও চীন থেকে আমদানি করা সুতার দাম পড়ে ৯ হাজার টাকা। বর্তমানে রাজশাহীর শোরুমগুলোতে সফট সিল্ক, র সিল্ক, মসলিন সিল্ক, বলাকা সিল্ক, মটকা সিল্ক, এন্ডি সিল্ক, দুপিয়ান সিল্ক ও জয়শ্রী সিল্ক নামে বিভিন্ন পোশাক বিক্রি হচ্ছে।
রাজশাহীতে সিল্কের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী সপরা সিল্ক। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে প্রদর্শনের জন্য কিছু পলু পোকা রাখা হয়েছে। কিন্তু নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেখানকার এক কারিগর জানান, যে পরিমাণ পলু পোকা ও গুটি আছে, তা দিয়ে একটি শাড়িও তৈরি করা সম্ভব নয়। মূলত ক্রেতাদের দেখানোর জন্যই এসব প্রদর্শন করা হয়, যাতে তারা ভাবেন, এখানেই আসল সিল্কের শাড়ি, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস বা ফতুয়া তৈরি করা হয়।
ক্রেতাদের অভিযোগ হল, চিনা সিনথেটিক সুতা দিয়ে তৈরি পোশাক আসল সিল্ক বলে চালিয়ে দিয়ে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগের মতো রেশমি পোশাকের গুণগত মানও নেই। এছাড়া এসব পোশাকের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিন দাম বাড়ায় অনেকেই সপুরা সিল্কে এসে পছন্দের পোশাক কিনতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন।
ক্রেতাদের এসব অভিযোগ মানতে নারাজ সিল্ক ব্যবসায়ীরা। সপুরা সিল্কের স্বত্বাধিকারী সাজ্জাদ হোসেন এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার সাইদুর রহমানের দাবি, সুতা আমদানিনির্ভর হলেও এটি সিল্কেরই বিকল্প।
আমেনা সিল্ক ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী আমিনুল ইসলাম বাবু বলেন, 'কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে রেশম শিল্প। দেশি সুতা পাওয়া না যাওয়ায় বাধ্য হয়ে চীন থেকে আমদানি করতে হচ্ছে।' তার দাবি, চীন থেকে আনা সুতোয় তৈরি পোশাক এবং দেশি রেশমি পোশাকের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই, তাই ক্রেতারা নিশ্চিন্তে এসব কিনতে পারেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. ইব্রাহিম হোসেন বলেন, 'ক্রেতাদের প্রতারিত করা হচ্ছে- এমন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া চীন থেকে আমদানিকৃত সুতায় তৈরি রেশমি পোশাকের গুণগত মান কেমন, তা খতিয়ে দেখা হবে। কোনো ধরনের সমস্যা পেলে আমরা স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রয়োজনে অভিযান পরিচালনা করব।'
অন্যদিকে, রেশম শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। সম্প্রতি রাজশাহী রেশম কারখানা পরিদর্শন শেষে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন