প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দিনের হালকা গরম, রাতের ঠান্ডা এবং ভোরের কুয়াশা শীতের আগমনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই শীতকালীন আগমনের প্রেক্ষিতে চুয়াডাঙ্গার গ্রামে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। শীত মৌসুমে ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস আহরণ এবং সুস্বাদু গুড় তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেছেন গাছিরা।
এ কারণে খেজুর গাছ কাটার কাজে জড়িত গাছিরা এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ধারালো দা নিয়ে গাছে উঠে তারা শুকনো অংশ ছাঁটাই-বাছাই করে রস সংগ্রহের জন্য গাছগুলোকে প্রস্তুত করছেন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু হবে। সারারাত গাছে বাঁধা মাটির হাঁড়ি ফোঁটা ফোঁটা মিষ্টি রসে পূর্ণ হবে। এই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হবে ঐতিহ্যবাহী নলেন গুড় ও খাঁটি পাটালি। এই পেশার সঙ্গে ১৪ থেকে ১৫ হাজার গাছি জড়িত রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার চার উপজেলায় মাঠ ও রাস্তার দুই ধারে ২ লাখ ৭২ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে জীবননগর, দামুড়হুদা, দর্শনা ও আলমডাঙ্গা এলাকায় খেজুর গাছের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ইতোমধ্যে ২০ ভাগ খেজুর গাছ কাটা সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি গাছ থেকে ১০ থেকে ১১ কেজি গুড় উৎপাদন সম্ভব। শীতের আমেজ শুরু হওয়ার আগেই মাঠজুড়ে গাছ পরিচর্যার কাজ চলছে। বর্তমানে গাছ ঝোড়া এবং পরিষ্কার করার কার্যক্রম চলছে। খেজুর গাছ বেশি রয়েছে এমন স্থানে গাছিরা অস্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করেছেন। রস থেকে গুড় তৈরির জন্য জ্বালানি হিসাবে খেজুর গাছের ডাল পালা শুকিয়ে রাখা হচ্ছে।
চলতি শীত মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন খেজুরের গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমে কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন খেজুরের গুড় উৎপাদন।
একই সময়ে খেজুরের রস ও গুড় বিক্রি করে আয় হয়েছিল ৭৫ কোটি টাকা।
একজন শ্রমিক প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি গাছ কাটছেন। এই কাজে দৈনিক ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা মজুরি প্রদান করা হচ্ছে। শীতের মৌসুমে গাছ কাটা, রস সংগ্রহ এবং গুড় তৈরির সঙ্গে বহু শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান ঘটে।
দামুড়হুদার দর্শনা এলাকার গাছি রহিম খাঁ বাসসকে জানান, তিনি এবারও আগেভাগেই খেজুর গাছ প্রস্তুত শুরু করেছেন। শীত বাড়লে রস সংগ্রহ শুরু হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ধুতুরহাট গ্রামের গাছি শীলন হোসেন জানান, শীতের আমেজ শুরু হতেই শ্রমিক সংকট এড়াতে তারা আগেভাগেই গাছ প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছেন। কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহে গাছে গাছে হাঁড়ি পাতা শুরু করবেন।
চুয়াডাঙ্গা সদরের গোপীনাথপুর গ্রামের কৃষক আকরামুল বাসসকে বলেন, তিনি এবার ৩০টি গাছ কাটবেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে গাছ কাটা শুরু করবেন বলে আশা করছেন। তাদের মাঠে অনেকে গাছ ঝোড়া বা ক্যালানো শুরু করেছেন। ১৫ দিন পর গাছে নলি পোতার কাজ শুরু হবে। নলি পোতার আগে গাছ চাষতে হবে বা ক্যালাতে হবে। এক সপ্তাহ পর রস সংগ্রহের জন্য হাঁড়ি পাতা হবে। একটি গাছ থেকে ৩ দিন রস সংগ্রহের পর ৪ থেকে ৫ দিন ফেলে রাখতে হয় বা গাছ শুকাতে হয়। এরপর হালকা রেক দিয়ে চেষে ফের রস সংগ্রহ করতে হবে।
খেজুরের রস থেকে মানসম্মত ও সুস্বাদু গুড় তৈরি একটি বিশেষ শিল্প। সারারাত ধরে ফোঁটা ফোঁটা করে সংগৃহীত হয় খেজুরের রস। সকালে সেই রস চুলায় নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী জ্বাল দেওয়া হয়। রস ঘন হয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু তরল গুড় (ঝোল গুড়), দানা গুড় এবং পাটালি।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক নূরুল ইসলাম বাসসকে জানান, চুয়াডাঙ্গার খেজুরের গুড়ের সুনাম দেশজুড়ে। গুণগতমান ভালো হওয়ায় সারা দেশেই এই গুড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে তাদের গুড় সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়। বর্তমানে শীতের শুরুতেই গাছিরা গাছ প্রস্তুতে ব্যস্ত রয়েছেন। জেলার প্রায় ২০ ভাগ গাছ ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং পর্যাপ্ত শীত পড়লে এবারও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। প্রকৃতিতে শীতের তীব্রতা যত বাড়বে, খেজুর গাছ থেকে রসের প্রবাহও তত বৃদ্ধি পাবে।
সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন