প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো তৎপর রয়েছে। ছবি : এএফপি
ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর আট দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের মাঝে আটকে থাকা ৪৩ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তাকে উদ্ধারের পর উপস্থিত শত শত উদ্ধারকারী উল্লাসে মেতে ওঠেন এবং একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির মাধ্যমে এসেছে।
ভূমিকম্পে সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা যেখানে ২ হাজার ৩০০-এর কাছাকাছি, এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। সেখানে এত দীর্ঘ সময় পরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিরাপত্তা প্রহরী হার্নান গিলকে জীবিত উদ্ধার করা একটি অলৌকিক ঘটনা হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।
গত ২৪ জুনের ওই বিপর্যয়ে ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় এলাকা কাতিয়া লা মার প্রায় পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে যায়। সেখানে সাত তলা একটি ভবনে গিল দায়িত্বরত ছিলেন। দীর্ঘ সময়ের পর, সতর্ক উদ্ধার অভিযানে তাকে স্ট্রেচারে করে বের করে আনে উদ্ধারকারীরা।
উদ্ধারকাজ চলাকালীন গিলের স্ত্রী গুসবিমার গঞ্জালেস মন্তব্য করেন, ‘এটি আসলেই একটি অলৌকিক ঘটনা।’
গিলের কাছে পৌঁছানোর জন্য তিন দিন ধরে দিন-রাত একরকম কাজ করেছে সাতটি দেশের উদ্ধারকারী দল। অভিযানে ভেনেজুয়েলা, চিলি, যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, কোস্টারিকা, এল সালভাদর এবং মেক্সিকো থেকে উদ্ধারকারীরা অংশ নিয়েছেন।
উদ্ধারকারীরা তাকে হাইড্রেটেড রাখতে (শরীরে পানির অভাব দূর করতে) একটি হোস পাইপের মাধ্যমে ১০ লিটারেরও বেশি পানি সরবরাহ করেন এবং অক্সিজেন দেওয়ার জন্য একটি টিউব স্থাপন করেন।
অভিযানের শেষ পর্যায়ে, প্রায় ৩০ জন কর্মী ভবনের পার্কিং এলাকায় জমে থাকা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করেন, অন্যদিকে দুজন উদ্ধারকারী একটি তিন মিটার টানেল বা সুরঙ্গ খনন করেন।
চিলির উদ্ধারকারী দলের প্রধান ক্রিস্টিয়ান ভেরা জানান, ‘ওই ব্যক্তি ঠিক যে জায়গায় আটকে ছিলেন, সেখানে পৌঁছানো মোটেও সহজ ছিল না।’
মাঝেমধ্যে এমন কিছু বিস্ময়কর উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে আরও জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার আশা এখন অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে এসেছে। গত মঙ্গলবার ভূমিকম্পের ছয় দিন পরে দেশটিতে এক তিন বছর বয়সী শিশুকে জীবিত পাওয়া গিয়েছিল।
এছাড়া, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বহু মানুষ এখন গৃহহীন এবং খাদ্য ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলো রোগীদের চাপে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যেকোনো সময় উপদ্রুত এলাকায় রোগব্যাধি বা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন