প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকার আশুলিয়ার গভীর রাতে চলন্ত একটি লোকাল বাসে এক নারী পোশাকশ্রমিকের উপর ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে ইতিহাস পরিবহন নামে পরিচিত বাসের চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে। সেই নারী শ্রমিকা আত্মরক্ষার প্রয়োজনে চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে প্রাণ বাঁচান। আহত অবস্থায় তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনাটির এক সপ্তাহ পরে, শনিবার (১৮ জুলাই) তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে, অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন এই ব্যাপারে নিশ্চিত করেন। এর আগে, শনিবার ভোররাতে, সাভার মডেল থানার রাজ ফুলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চালককে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া চালকের নাম মো. আজিজুল শিকদার, যিনি রাজু নামে পরিচিত (৩৭)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার হরিণহাটি এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে, তিনি সাভারের রাজ ফুলবাড়িয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, অভিযানে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যবহৃত ইতিহাস পরিবহনের বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৮৫০৮) সঠিকভাবে জব্দ করা হয়েছে। সাথে ভুক্তভোগীর হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত হেলপারকে শনাক্ত করার জন্য গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।
মামলার এজাহার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারী পোশাকশ্রমিক (২৭) আশুলিয়ার ইপিজেড-১ এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় জুনিয়র অপারেটর হিসাবে কর্মরত। গত ১২ জুলাই, নিজ জেলা দিনাজপুর থেকে কর্মস্থলে ফেরার পথে, রাতে চন্দ্রা চৌরাস্তায় নামার পরে, ঢাকাগামী ইতিহাস পরিবহনের একটি লোকাল বাসে উঠেন। তখন বাসটি শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পরে, অন্য সব যাত্রী নেমে গেলে চালক ও হেলপার আর কোনো যাত্রীকে বাসে উঠতে দেননি। এ অবস্থাতে, তিনি আতঙ্কিত হয়ে বাস থামিয়ে নামিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু, চালক বাস থামানোর পরিবর্তে বাসের গতি আরও বাড়িয়ে দেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড ও ইপিজেড এলাকার মধ্যবর্তী নির্জন স্থানে পৌঁছালে, বাসের হেলপার তার পাশে এসে জোরপূর্বক তার কাছে শ্লীলতাহানি করে এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালাতে থাকে। এই সুযোগে চালকও তাকে সহযোগিতা করেন। নিজের রক্ষা করতে গিয়ে, জীবন বাজি রেখে ওই নারী চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়ে যান। ফলে, তার মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে, তিনি অন্য একটি বাসের সহায়তায় আশুলিয়া এলাকায় এসে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরের দিন থানায় অভিযোগ করেন।
পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন সূত্র দ্বারা অভিযুক্ত চালকের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে, অভিযানে তাকে আটক করা হয়। একই সাথে, ঘটনার বাসটি জব্দ করা হয় এবং ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসাবে গণ্য হচ্ছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক হেলপারকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে, পুলিশ জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন