প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সকালের শুরুতে এক কাপ গরম চা বা কফি পান করা অনেকের জন্য একটি প্রিয় অভ্যাস। কিছু মানুষ দিনের বিভিন্ন সময়ে গরম পানীয় পান করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে, চা বা কফি কতটা গরম অবস্থায় পান করা হচ্ছে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি একটি বিস্তৃত গবেষণায় দেখা গেছে, অত্যন্ত গরম চা-কফি পান করার ফলে খাদ্যনালির একটি নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
গবেষণায় প্রায় ১০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, যারা চা বা কফি ‘খুব গরম’ অবস্থায় পান করতে পছন্দ করেন, তাদের খাদ্যনালির স্কোয়ামাস কোষ ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে তিন গুণেরও বেশি।
গবেষণাটি ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক ক্যানসারবিষয়ক একটি গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
খুব গরম পানীয়েই কেন ঝুঁকি বাড়ে?
গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত গরম তরল দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্যনালির অভ্যন্তরীণ আবরণে ক্ষতি ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এই ধরনের ক্ষতি সময়ের সাথে সাথে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
গবেষণায় যুক্ত বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, বিষয়টি চা বা কফির উপাদান নিয়ে নয়, বরং পানীয়টির তাপমাত্রা কতটা গরম অবস্থায় পান করা হচ্ছে—সেটিই মূল বিষয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার পানীয়কে মানুষের জন্য সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
প্রায় ১০ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ
গবেষণায় যুক্তরাজ্যের দুটি বড় গবেষণার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ‘মিলিয়ন উইমেন স্টাডি’ ও ‘ইউকে বায়োব্যাংক’। এতে ৩৭ থেকে ৭৩ বছর বয়সী প্রায় ১০ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন।
অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা সাধারণত চা বা কফি কী তাপমাত্রায় পান করেন। উত্তরে তারা ‘উষ্ণ’, ‘গরম’ অথবা ‘খুব গরম’—এই তিন ধরনের পছন্দের কথা জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে, দিনে কত কাপ গরম পানীয় পান করেন, সেটিও জানা হয়। পরে তাদের দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং কারা খাদ্যনালির ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন, তা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়।
প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা একটি গবেষণা এবং প্রায় ১১ বছর ধরে চলা আরেকটি গবেষণার তথ্য মিলিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়।
‘খুব গরম’ পানীয় পানকারীদের ঝুঁকি তিন গুণের বেশি
দুই গবেষণার তথ্য একত্র করে দেখা যায়, যারা পানীয় ‘খুব গরম’ অবস্থায় পান করতেন, তাদের খাদ্যনালির স্কোয়ামাস কোষ ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ‘উষ্ণ’ পানীয় পানকারীদের তুলনায় ৩ দশমিক ১৭ গুণ বেশি।
অর্থাৎ ঝুঁকি বেড়েছে ২১৭ শতাংশ। যারা ‘গরম’ পানীয় পান করতেন, তাদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি উষ্ণ পানীয় পানকারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল।
তবে খাদ্যনালির আরেক ধরনের ক্যানসার, অ্যাডেনোকার্সিনোমার ক্ষেত্রে পানীয়ের তাপমাত্রার সঙ্গে ঝুঁকির এমন সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
দিনে ছয় কাপ বা তার বেশি খেলেও বাড়ে ঝুঁকি
শুধু তাপমাত্রাই নয়, দিনে কতবার গরম পানীয় পান করা হচ্ছে, সেটিও গবেষণায় বিবেচনা করা হয়েছে।
যারা দিনে ছয় কাপ বা তার বেশি গরম পানীয় পান করতেন, তাদের স্কোয়ামাস কোষ ক্যানসারের ঝুঁকি ছয় কাপের কম পানকারীদের তুলনায় ৭১ শতাংশ বেশি ছিল।
গবেষকরা ধূমপান, মদ্যপান ও শরীরের গঠনসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই সম্পর্ক দেখতে পেয়েছেন।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ধূমপান করেন কি না, মদ্যপান করেন কি না কিংবা চায়ে দুধ মেশানো হয় কি না—এসবের পার্থক্য থাকলেও খুব গরম পানীয়ের সঙ্গে ক্যানসারের বাড়তি ঝুঁকির সম্পর্ক একই রকম ছিল।
একটু ঠান্ডা করে পান করলেই কমতে পারে ঝুঁকি
গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—পানীয়ের তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে পান করলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে যারা বর্তমানে পানীয় খুব গরম অবস্থায় পান করেন, তারা তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে ‘গরম’ অবস্থায় পান করলে খাদ্যনালির স্কোয়ামাস কোষ ক্যানসারের প্রায় ১৪ শতাংশ ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। এতে বছরে প্রায় ৪৪০টি ক্যানসারের ঘটনা কমতে পারে বলে গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চা বা কফি পরিবেশনের পর সঙ্গে সঙ্গে পান না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা ভালো। জিহ্বায় পোড়া বা অসহ্য গরম লাগলে সেটি পান করার উপযুক্ত তাপমাত্রায় পৌঁছায়নি—এমনটা ধরে নেওয়া যেতে পারে।
শুধু গরম পানীয় নয়, আরও কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরম চা-কফির তাপমাত্রা কমিয়ে পান করা উপকারী অভ্যাস হতে পারে। তবে খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকির ক্ষেত্রে আরও কিছু প্রতিষ্ঠিত কারণ গুরুত্বপূর্ণ।
এর মধ্যে রয়েছে ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, স্থূলতা এবং দীর্ঘদিনের অম্লতা বা খাদ্যনালিতে অ্যাসিড ওঠার সমস্যা।
তাহলে শুধু চা-কফি ঠান্ডা করে পান করাই নয়, ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা এবং শরীরের ওজন ও দীর্ঘদিনের অম্লতার সমস্যার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে পানীয়টি একেবারে ধোঁয়া ওঠা অবস্থায় পান না করে কিছুটা ঠান্ডা করে নেওয়া সহজ একটি সতর্কতা হতে পারে।
সূত্র: হেলথলাইন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন