প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রক্তাক্ত জুলাইয়ের ২৯ তারিখে সমন্বয়কদের মুক্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছিল রাজপথ। এই ২৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তি ও আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালাতে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবী। শুনানির সময় ছয় সমন্বয়ককে ডিবি কার্যালয়ে তুলে নিয়ে খাওয়ানোর ছবি প্রকাশ করার বিষয়টিকে জাতির সঙ্গে 'মশকরা' বলে মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।
রাজপথ তখন রক্তে ভেজা ছিল, চারদিকে স্বজন হারানোর কান্না এবং তীব্র ক্ষোভ। সমন্বয়কদের জিম্মি করে আন্দোলনের শেষ করার চক্রান্তে সেদিন গোটা দেশ আবারও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ২৪ তারিখের ২৯ জুলাই সকালে রাজধানী সহ দেশের বেশ কিছু স্থানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। শিক্ষকরাও এতে যোগদান করেন।
জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে কয়েকজন শিক্ষকও এসেছিলেন। এ সময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং ছাত্রলীগের তরফ থেকে আবারো বাধা দেয়া হয়। পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড এবং টিয়ারশেলের মুখোমুখি হয়ে ওই দিন ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে।
অবিলম্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তি এবং আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালাতে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবী।
শুনানির সময় ছয় সমন্বয়ককে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে তাদের খাওয়ানোর ছবি প্রকাশের নাটকীয়তার প্রতি কড়া ভাষায় ধিক্কার জানান হাইকোর্ট। হাইকোর্ট তখন জানায়, জাতিকে নিয়ে মশকরা কইরেন না। যাকে ধরেন, তাকে একটি খাবার টেবিলে বসিয়ে দেন।
এদিন কোটা সংস্কার আন্দোলনে রংপুরে আবু সাঈদের বুকে গুলি ছোড়ার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং নিহতের সংখ্যা নিয়ে সত্য গোপন করার অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার সঠিক কারণ উদ্ঘাটন, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করতে আইনজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা মিলে গঠন করেন 'জাতীয় গণতদন্ত কমিশন'।
সরকারের পক্ষ থেকে সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে পরদিন সারা দেশে শোক পালন করার সিদ্ধান্ত নিলে, তা প্রত্যাখ্যান করে একক বা ঐক্যবদ্ধভাবে লাল কাপড় মুখে ও চোখে বেঁধে ছবি তোলা এবং অনলাইনে প্রচার কর্মসূচির ঘোষণা দেয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
এদিন দেশজুড়ে চলমান সহিংসতায় জামায়াত শিবিরের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ১৪ দলের বৈঠকে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন