প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানিয়েছে তুরস্ককে এফ-থার্টি ফাইভ যুদ্ধবিমান না দিতে। এ ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে যে, কেন তেল আবিব বাধা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি আঙ্কারা মার্কিন এই যুদ্ধবিমান পায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে। ফলে, দীর্ঘসময় ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসা ইসরাইলের ক্ষমতা সেখানে কমতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে আঙ্কারার কাছে এফ থার্টি ফাইভ যুদ্ধবিমান বিক্রির ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তুরস্ককে যুদ্ধবিমান না দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছেন। এখানে প্রশ্ন উঠছে, ইসরাইলের সমস্যা কোথায়, যদি তুরস্ককে এফ থার্টি ফাইভ দেওয়া হয়?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কেবল যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি, আকাশসীমা এবং আঞ্চলিক নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা। তাহলে, যদি তুরুক মার্কিন এই যুদ্ধবিমান পায়, তবে পুরো অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তিত হবে।
ইসরাইলের সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো আকাশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। সিরিয়া, লেবানন অথবা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে যেকোনো অভিযান পরিচালনার জন্য তেল আবিব এই সক্ষমতার উপর নির্ভর করে। আর তুরস্ক যদি এফ-থার্টি ফাইভ পায়, তাহলে তাদের বিমানবাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে, ওই অঞ্চলে ইসরাইলের কৌশলগত স্বাধীনতা এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
আঙ্কারাকে যুদ্ধবিমান না দেওয়ার পেছনে বাণিজ্যিক কারণও বিদ্যমান। ভারত, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপকে যুক্ত করতে আই.এম.ই.সি করিডোর তৈরি হচ্ছে। এটি ভারত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডান এবং ইসরাইল হয়ে ইউরোপে পৌঁছাবে। ভারতের জন্য এটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোডের বিকল্প এবং ইসরাইলের জন্য এটি ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লাইফলাইন।
তবে, তুরস্ক এই করিডোরের বাইরেই আছে। ফলে, আঙ্কারা ইরাক হয়ে নিজেদের উন্নয়ন রোড করিডোর তৈরি করতে চায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুরস্ক এবং তেল আবিব কেবল নিরাপত্তা নয় বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ পথ নিয়েও প্রতিযোগিতায় রয়েছে।
জ্বালানির রাজনীতির সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ইসরাইলের লেভিয়াথন, তামারা এবং সাইপ্রাসের আফ্রোদিতি গ্যাসক্ষেত্র ইউরোপের ভবিষ্যত জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই অঞ্চলের সমুদ্রসীমা বিষয়ে তুরস্ক, গ্রিস এবং সাইপ্রাসের মধ্যে বহুদিনের বিরোধ বিদ্যমান। তাই, যদি তুরস্ক শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তাহলে ইসরাইলের জন্য এই গ্যাস রুট এবং জ্বালানি প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত এক দশকে ভারত ও ইসরাইলের সম্পর্ক প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং আইএমইসিকে কেন্দ্র করে আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে। অপরদিকে, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক অবস্থান করছে। কাশ্মীর ইস্যুতে তুরস্ক প্রায়ই পাকিস্তানের অবস্থান সমর্থন করে থাকে, আর ইসলামাবাদও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তুরস্কের পাশে থাকে। যদি তুরস্ক এফ থার্টি যুদ্ধবিমান পায়, তাহলে তারা আরও শক্তিশালী হবে এবং এ অঞ্চলে তাদের প্রভাব বাড়বে। উল্লেখ্য, ভারত-পাকিস্তান এর মধ্যে বরাবরই বৈরী সম্পর্ক বিদ্যমান।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চায় একদিকে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তুরস্ককে তাদের কৌশলগত বলয়ে রাখতে, অপরদিকে ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখাও ওয়াশিংটনের একটি দীর্ঘদিনের নীতি। তাই, এফ-থার্টি ফাইভ ইস্যুটি তেল আবিবের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শক্তির ভারসাম্য, বাণিজ্য করিডোর, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির একটি পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন