প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
টানা বৃষ্টির ফলে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা ও এলাকার বিস্তীর্ণ স্থান পানির নিচে নিমগ্ন হয়ে গেছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লীবিদ্যুৎ ও হরিনহাটি এলাকায় পানি হাঁটুসমান জমে গেছে, ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও সড়কের উপর জমা থাকা পানির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা যেমন হরিনহাটি, জোড়াপাম্প, বিশ্বাসপাড়া, ভাঙা মসজিদ, খাজার ডেক, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, ডাইনকিনী, হরতকীতলা, আমতলা, মাইওয়ান, দিঘীরপাড় বটতলা, পূর্ব চান্দ্রা, ইত্যাদি ২০টির বেশি স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান ও কোথাও কোমরসমান পানির কারণে সড়ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে।
জানা যায়, কালিয়াকৈর পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির হলেও নামমাত্র। ২০০১ সালে পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার গঠন পর থেকে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের উপরে দোকানপাট, বাসাবাড়ি, শিল্প কারখানা নির্মাণসহ বিভিন্ন কারণে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়। পৌরসভায় প্রায় দুই শতাধিক শিল্প কলকারখানা রয়েছে। বিশেষ করে অনেক শিল্প কারখানা পানিতে ডুবে গেছে, যেখানে ১০ থেকে ১৫টি কারখানা কর্তৃপক্ষ বন্ধ ঘোষণা করেছে। এদিকে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল ও জলাশয় ভরাট, পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ার এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য ভারি বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বাসপাড়া, হরিনহাটি ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোর মুখ সংকুচিত হয়ে গেছে, তাই পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ড্রেনের উপর দোকানপাট থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ৫ নং ওয়ার্ডের মাইওয়ান মোড় থেকে ওয়ালটন ফ্যাক্টরি পর্যন্ত ড্রেনের উপর দোকানপাট গড়লে টানা বর্ষণের জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
হাজারো ছাত্রছাত্রী ও গার্মেন্টস শ্রমিকরা স্কুল-কারখানায় যেতে পারছে না। নিচু জমি ভরাট করে মিলকারখানা নির্মাণের কারণে ফসলের জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও খাবার পানির সংকটের কারণে হাজারো মানুষ মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। মানুষের দুর্ভোগের অবসান হচ্ছে না।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেছেন, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে খালগুলোর পানি ধারণ ক্ষমতা অতিক্রম করেছে। ফলে পানি দ্রুত নামতে পারছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ড্রেন পরিষ্কার, খাল থেকে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদে খাল পুনঃখনন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, বৃষ্টি হচ্ছে এবং রাস্তাঘাট এখনও জলাবদ্ধতায় রয়েছে। কিছু পানি নামলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। হাজারো মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে কালিয়াকৈর পৌরসভার ২০টির বেশি এলাকা পানির নিচে। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেন-খাল দখলের কারণে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ইউএনও খাল পুনঃখনন ও ড্রেন পরিষ্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতায় যান চলাচল, শিক্ষা কার্যক্রম ও শিল্পকারখানার শ্রমিকদের কর্মস্থলে যাতায়াতে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। অনেক পরিবার রান্না-বান্না বন্ধ করে দিয়ে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটানোর সামিয়ানা নিয়ে বসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন